সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় শুরু হবে ‘অঘোষিত’ ফাইনাল ম্যাচটি। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হয়েছে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ। দুটিতেই কিছুটা অসমান বাউন্স আর স্লো ছিল উইকেট। তবে আজকের ম্যাচের উইকেটের আচর কেমন হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট। শন টেইট জানান, বাংলাদেশের কোনো উইকেট সম্পর্কেই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তার কাছে বাংলাদেশে এটাই ক্রিকেট খেলার মজা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসা টেইট বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা একটা ভালো উইকেট মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা ঠিকভাবে বোঝা কঠিন কেমন আচরণ করবে। সাধারণভাবে যদি চট্টগ্রামের দিকে তাকান, এটা বেশ ভালো ব্যাটিং উইকেট এবং মাঝে মাঝে বল একটু নিচু হয়ে আসতে পারে, তবে আমি উইকেট নিয়ে খুব বেশি কিছু বিশ্লেষণ করতে চাই না। আমি যেটা জানি সেটা হলো আমরা একটা ভালো জয় নিয়ে এখানে আসছি এবং শেষ পর্যন্ত এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং যেটা সামনে আছে সেটার সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হবে।’ এমনকি এই ম্যাচের উইকেটকে গেলো এক বছরের সেরা উইকেট মানছেন শন, ‘এই উইকেটটা আমার এখানে ১২ মাসে দেখা চট্টগ্রামের মধ্যে সবচেয়ে ভালো উইকেটের মতো লাগছে। দেখা যাক কালকে কীভাবে আচরণ করে। বাংলাদেশে আমি একটা জিনিস দেখেছি, এখানে উইকেট পড়া সাধারণভাবে কঠিন, সত্যি বলতে। বিশেষ করে মিরপুরে, কারণ আমরা দেখেছি প্রথম ম্যাচ আর দ্বিতীয় ম্যাচ একটু আলাদা ছিল। আর হয়তো এটাই বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলার মজা।’ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে খেলেছে। চট্টগ্রাম সাধারণত ব্যাটিং উইকেট হয়। বাংলাদেশের পেসাররা এখন যেকোনো কন্ডিশনে বোলিং করতে এবং মানিয়ে নিতে পারে বলেও আত্মবিশ্বাসী শন টেইট। তিনি বলেন, ‘আমি খুব আত্মবিশ্বাসী তারা এটা করতে পারবে। আমি জানি তারা মানিয়ে নিতে কতটা আত্মবিশ্বাসী। আমরা দেখেছি তারা গত দুই ম্যাচে বেশ ভালো বোলিং করেছে এবং উইকেটগুলো একটু আলাদা ছিল। তারা দুইটি ভিন্ন কন্ডিশনে সত্যিই ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। তাই আগামী ম্যাচেও তারা এটা করতে পারবে না এমন কোনো কারণ নেই। কিন্তু এটা তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটÑআপনি যেখানেই যান, অস্ট্রেলিয়া হোক বা জিম্বাবুয়ে, একটু আলাদা হবেই। আর সেটাই এর সৌন্দর্য। তরুণ ফাস্ট বোলারদের জন্য বিভিন্ন পিচে খেলা এবং সেখানে পারফর্ম করার সুযোগ পাওয়াÑএটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।’ নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান বা তাসকিন আহমেদের বাইরে পাইপলাইনের পেসারদের সঙ্গেও কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ। এই সময়ে বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে কাজ করতে বেশ উপভোগ করছেন শন। শন টেইট বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গ উপভোগ করি। আমি তাদের উন্নতি দেখতে উপভোগ করি এবং যখন তারা ভালো করে তখন সেটা দেখা দারুণ কিছু। মেন্টর বা কোচ যেটাই বলুন, তাদের পাশে থাকতে হয় ভালো সময়েও, খারাপ সময়েও। এটা আলাদা কিছু না, আমি দেখি এটা আমরা সবাই একসঙ্গে। আমি তাদের বোলিং গ্রুপের অংশ এবং প্রায় এক বছর এখানে আছি। আমি সত্যিই এই ফাস্ট বোলারদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং কাজ করা উপভোগ করি।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে আছেন রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন। রিপন আগেও স্কোয়াডে ছিলেন তবে অভিষেক হয়নি। আর সাকলাইন এবারই প্রথম দলে ডাক পেলেন। দুজনের সঙ্গেই আগে কাজ করেছেন শন। স্কোয়াডে এই দুই নতুন মুখ দেখে যারপরানাই খুশি শন টেইট। বলেন, ‘দারুণ যে জাতীয় দলে কিছু নতুন মুখ এসেছে। আমরা তাদের কিছুটা দেখেছি, আমি তাদের সাম্প্রতিক সময়ে কাজ করেছি, তবে এর আগেও এমার্জিং পর্যায়ে দেখেছি। গত ১২ মাসে তারা ভালো খেলেছেÑবিপিএল বা এমার্জিং ক্রিকেট যেটাই হোক। তারা দুজনেই খুব ভালো পারফর্ম করেছে এবং তারা জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমি গত এক থেকে দেড় মাসে তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছি। তারা দুজনই দারুণ মানুষ এবং কাজ করতে খুব ভালো। তাই স্কোয়াডে তরুণদের থেকে নতুন এনার্জি পাওয়া সবসময়ই ভালো। টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর অপেক্ষায় আছি।’

প্রথম ম্যাচে কোনো উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে রীতিমত নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছিলেন নাহিদ রানা। ১০ ওভার বোলিং করে ৩২ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট অবশ্য একটু বেশিই গর্বিত। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে রানাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুসের কথাও মনে পড়েছে শন টেইটের। এই সিরিজে নাহিদ রানার ইয়র্কার মনে ধরেছে শন টেইটের। এমনকি সেটা নাকি তাকে পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। টেইট বলেন, ‘এই সিরিজে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, সেটা হলো শেষ ম্যাচে তার ইয়র্কারগুলো। সেটা আমাকে ওয়াকার ইউনুসের বোলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। দ্রুতগতির বোলার এসে শুরুতে উইকেট নেয়, তারপর শেষ দিকে দ্রুত ইয়র্কার দিয়ে লেজ গুটিয়ে দেয়Ñএটা দেখতে আমার দারুণ লাগে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা ভীষণ উপভোগ করি।’