নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো: তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ১১ টায়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৬ রানে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটের জয়ে সমতা ফেরায় টাইগাররা। ফলে তৃতীয় ম্যাচটি পরিণত হয়েছে একেবারেই ‘ফাইনাল’-এ। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।
প্রথম ওয়ানডেতে নিজেদের চেনা কন্ডিশনেও কিছুটা ছন্দহীন ছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই দেখা যায় অসামঞ্জস্যতা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট বদলে যায় নাটকীয়ভাবে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তরুণ পেসার নাহিদ রানার। তার আগুনঝরা বোলিং স্পেলে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে।
মাত্র ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন নাহিদ রানা। এটি তার ক্যারিয়ারের ১০ম ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার। তার গতি, বাউন্স এবং ধারাবাহিক লাইন-লেন্থে দিশেহারা হয়ে পড়ে কিউই ব্যাটাররা।
বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইটও রানার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। তিনি বলেন, “নাহিদ খুবই ফিট একজন খেলোয়াড়। সে যেভাবে বোলিং করছে, প্রতিপক্ষ দলগুলো নিশ্চয়ই তাকে মোকাবিলা করতে চাইবে না।” তবে তৃতীয় ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
তৃতীয় ওয়ানডের জন্য দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আরেক তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিবকে। ধারণা করা হচ্ছে, নাহিদ রানার ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে বিশ্রাম দিয়ে তানজিমকে সুযোগ দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগে নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায়ই বড় সংগ্রহের ম্যাচ দেখা যায়। মিরপুরের ধীরগতির উইকেটের তুলনায় চট্টগ্রামের পিচে থাকে গতি ও বাউন্সের উপস্থিতি। তবে কখনও কখনও এটি নিচু আচরণও করতে পারে।
শন টেইট বলেন, “উইকেট দেখতে ভালো মনে হচ্ছে, তবে ঠিক কেমন আচরণ করবে তা বলা কঠিন। ঐতিহ্যগতভাবে এটি ব্যাটিং সহায়ক, যদিও মাঝে মাঝে নিচু হয়ে যেতে পারে।”
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দলও আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়া করলেও সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নামবে। দলের পেসার উইল ও’রুর্ক জানান, আউটফিল্ড দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং উইকেটে কিছুটা ঘাস থাকায় পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, “আউটফিল্ডটা শুষ্ক ও দ্রুত মনে হচ্ছে। উইকেটে কিছু ঘাসও রয়েছে, তাই আমরা কিছুটা গতি ও বাউন্স আশা করছি। আমরা আমাদের ফিল্ডিং নিয়ে গর্ব করি এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
বাংলাদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স থেকেও আত্মবিশ্বাস পেতে পারে নিউজিল্যান্ড। ২০২৩ সালে তারা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল, যা ছিল ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে তাদের প্রথম সিরিজ জয়। ফলে উপমহাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। এখন পর্যন্ত ৪৮টি ওয়ানডের মধ্যে তারা জিতেছে ৩৫টিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১২ ম্যাচে, আর একটি ম্যাচের ফল হয়নি। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই ব্যবধান কমাতে চায় টাইগাররা।
স্কোয়াডের দিক থেকেও দুই দলই ভারসাম্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ দলে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়সহ অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণ। বোলিং আক্রমণে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামদের মতো নির্ভরযোগ্য নাম।
অন্যদিকে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলে রয়েছে হেনরি নিকোলস, উইল ইয়ং, ডিন ফক্সক্রফটদের মতো কার্যকর ব্যাটার এবং উইল ও’রুর্ক, বেন সিয়ার্সদের মতো প্রতিশ্রুতিশীল পেসার।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক রোমাঞ্চকর লড়াই।