নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট-বলের দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বাংলাদেশ ১৮.০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তুলে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে, ফলে স্বাগতিকরা এক উত্তেজনাপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: শুরুতেই ধাক্কা, পরে ঘুরে দাঁড়ানো : ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে চাপে পড়ে কিউইরা। মাত্র ১.২ ওভারে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে যান ওপেনার রবিনসন। অফ স্টাম্পের আশেপাশে ব্যাক-অব-লেংথ ডেলিভারিতে কভার অঞ্চলে ঠেলে দ্রুত রান নিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে দুই ব্যাটারের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হলে ফিল্ডারের দুর্দান্ত সরাসরি থ্রো স্টাম্প ভেঙে দেয়। দলীয় সংগ্রহ তখন ১১/১।

এরপর কিছুটা স্থিতিশীলতা আসে, কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা চাপ বজায় রাখেন। ৯.৪ ওভারে আসে দ্বিতীয় উইকেট-এবার এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন আরেক ব্যাটার। মিডল-অফ লাইনে ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে সামান্য টার্ন থাকায় ব্যাটার রিভার্স র‌্যাম্প খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। বল সরাসরি প্যাডে লাগে এবং আম্পায়ার আউট দেন। স্কোর দাঁড়ায় ৯৯/২।

১১.৪ ওভারে আসে তৃতীয় ধাক্কা। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ঠিকভাবে সংযোগ করতে না পারায় বল লিডিং এজে লেগে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচে পরিণত হয়। এরপর ১২.৩ ওভারে ডিপ কভারে ক্যাচ তুলে দেন আরেক ব্যাটার। অফ স্টাম্পের বাইরে শরীর থেকে দূরে গিয়ে শট খেলতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন, বল উড়ে গিয়ে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ে।

১৪.৬ ওভারে ইনিংসের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন উইকেটটি আসে। ঘণ্টায় ৯৬.১ কিমি গতির লেংথ বল ভেতরের দিকে ঢুকে ব্যাটারকে পরাস্ত করে স্টাম্প ভেঙে দেয়। এই ধাক্কায় নিউজিল্যান্ড কিছুটা চাপে পড়ে যায়।

১৬.৩ ওভারে ১৫১/৫ অবস্থায় পৌঁছানোর পর খারাপ আলোর কারণে ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। বিরতির পর ফিরে এসে ১৭.৫ ওভারে আবারও উইকেট হারায় কিউইরা। ধীরগতির লেংথ বলে ব্যাটার ঠিকভাবে টাইম না করতে পারায় বল আকাশে উঠে যায় এবং শর্ট ফাইন লেগে সহজ ক্যাচে পরিণত হয়।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসে ছিল ধীর শুরু, মাঝের ধস এবং শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ।

বাংলাদেশের ইনিংস: চাপের মাঝেও লক্ষ্য তাড়া : ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। তবে ৫.৩ ওভারে প্রথম ধাক্কা আসে। ন্যাথান স্মিথ -এর অফ স্টাম্পের ওপর ফুল লেংথ বল সাইফ জোরে মারতে গিয়ে ব্যাট ঘুরে যায় এবং বল অন-সাইডে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ে। দলীয় সংগ্রহ ৪১/১।

এরপর ৮.৫ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লেংথ বল কিছুটা নিচু হয়ে আসলে লিটন উইকেট ছেড়ে সরে গিয়ে শট খেলতে যান, কিন্তু ব্যাট মিস করে বল স্টাম্প ভেঙে দেয়। স্কোর ৬৬/২।

১০.১ ওভারে তানজিদ তামিম লং-অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। অফ স্টাম্পের বাইরে বলটি ঠিকভাবে টাইম করতে না পেরে ব্যাটের নিচের অংশে লেগে ফিল্ডারের হাতে চলে যায়। বাংলাদেশ তখন ৭৭/৩।

এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। ১২.৩ ওভারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ আউটের মাধ্যমে জ্যাকবস ফিরে যান। অফ স্টাম্পের বাইরে বল খেলতে গিয়ে টাইমিং হারিয়ে ফেলেন তিনি এবং ডিপ কভারে ক্যাচ ওঠে।

ম্যাচের মোড় ঘোরানো শেষের দিক : মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশ খুব সতর্ক ব্যাটিং করে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে। কিউই বোলাররা চেষ্টা করলেও রান আটকাতে ব্যর্থ হন। শেষদিকে প্রয়োজনীয় রান রেট হাতের নাগালে চলে আসে।

শেষ পর্যন্ত ১৮.০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তুলে লক্ষ্য পূরণ করে বাংলাদেশ। পুরো ইনিংসে নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং, চাপ সামলে খেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক শট নির্বাচনের কারণেই জয় নিশ্চিত হয়।

চট্টগ্রামের এই ম্যাচটি ছিল ব্যাট-বলের দারুণ এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নিউজিল্যান্ডের ১৮২ রানের ইনিংস যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ৬ উইকেটের জয় ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখে দর্শকদের জন্য। ম্যাচ সেরা হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।