বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল বোর্ডের আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা আবারও জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি অহংকার ও রাগ বিসর্জন দেয়ার মানসিকতার কথাও স্পষ্ট করেছেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমার প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই পরিষ্কার করে বলেছিলাম যে, আমি পরবর্তী নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়বো। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা; একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তারা প্রাপ্য।তিনি আগের বোর্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সম্প্রতি আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশে ক্রিকেট প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। খেলোয়াড়রা ভুগেছেন। আমরা চাই না, এমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হোক। নির্বাচনের পর যদি সুযোগ পাই, তাহলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবো।’
নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা প্রসঙ্গে তামিম জানান, ‘আমাদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তবে এর আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’ দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে অধিনায়কত্ব থেকে বোর্ড সভাপতির ভূমিকায় আসার বড় পরিবর্তনের দিকটিও উঠে আসে। যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশে এক নম্বর খেলা বলেই এর প্রচার থামিয়ে দেওয়া যাবে না। আমার মনে হয়, শহর, মফস্বল ও গ্রামে আমরা খেলাটির প্রচার যথেষ্ট করছি না। বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন নিয়মিত তাদের ব্র্যান্ড প্রচার করে, নইলে মানুষ নাম ভুলে যায়, ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও তেমন প্রচার দরকার।’
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও বোর্ড সভাপতির দায়িত্বের পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই বিশাল পার্থক্য আছে। অধিনায়ক হিসেবে আপনি শুধু ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের নিয়েই ভাবেন। কিন্তু বোর্ড সভাপতি হিসেবে আপনাকে সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হয়। শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচিং স্টাফ ও বোর্ডের কর্মীদের নিয়েও। এখানে বড় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আবেগ দিয়ে নয়, দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে হয়।’
আইসিসি ও অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নেবেন- এ প্রসঙ্গে তামিম বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি। পরিষ্কার যোগাযোগ রাখার ব্যাপারে আমি বিশ্বাস করি। অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে হলে কৌশলী ও যৌক্তিক হতে হয়।’ সবচেয়ে কম বয়সী বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তামিম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, উপমহাদেশে কম বয়সী নেতৃত্বকে মেনে নিতে অনেক সময় চ্যালেঞ্জ থাকে, তবে সবার প্রতি সম্মান দেখানোই তার দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, ‘এখানেও যোগাযোগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামিম বলেছেন, ‘আমি নির্দেশনা দেয়ার জন্য বা কঠোর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার জন্য এখানে আসিনি। এটা আমার পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়। সভাপতির চেয়ারে বসে অহংকার বা রাগের কোনো স্থান নেই। এই মানসিকতা নিয়েই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই।’ নারী ক্রিকেট প্রসঙ্গে তামিম বলেছেন, ‘সবার আগে আমি আমাদের নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। যা ঘটেছে এবং গত কয়েক বছরে তারা যে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে গেছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সার্বিক নিরাপত্তাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার।’