প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনদের টেস্ট পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। ঢাকা ও সিলেটে দুইটি টেস্ট খেলবে দুই দল। দুটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্রে বাংলাদেশ দুইটি ম্যাচ খেলেছে। গত বছর শ্রীলংকা সফরের দুই টেস্টের একটিতে ড্র করে। পরেরটিতে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায়। ৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ নম্বরে। বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল দায়িত্ব নেয়ার পরপরই জানিয়েছিলেন, এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫-৬ নম্বরের মধ্যে যেন থাকতে পারে। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রাণান্তকর চেষ্টার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুলও। যদিও অতীত বাংলাদেশকে বারবার হতাশই করেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে বাংলাদেশ সাতটি ম্যাচ খেলেছিল। জিততে পারেনি কোনো ম্যাচ। ড্র করেছিল একটি। হেরেছিল ছয়টি। পরের চক্রে ১২ ম্যাচে মাত্র ১ জয়, ১০টাতেই হার।
সর্বশেষ টেস্ট চক্রে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ দেশের বাইরে, একটি দেশের মাটিতে জিতেছে। সব মিলিয়ে ১২ ম্যাচে চারটিতে জিতেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের সিরিজ জিতেছিল। এছাড়া নিউজিল্যান্ডকে দেশের মাটিতে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিদেশে হারিয়েছিল। অতীতের ফ্যাকাসে রেকর্ডের জন্য ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা যাবে না তা তো নয়। বড় আশায় বুক বেঁধেছেন নির্বাচকরা, ‘অবশ্যই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খুব একটা গর্ব করে বলতে পারব না যে, আমরা খুব ভালো খেলেছি। আমাদের পরিকল্পনা এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা যেন ভালো করতে পারি। আগে আমরা খুব একটা ভালো করিনি, সেখান থেকে যেন নিজেদেরকে আরেকটু উপরের দিকে নিয়ে আসতে পারি।’ সফলতার জন্য হাবিবুল মনে করছেন, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা জরুরী। সেটা ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই। সেই চেষ্টা করবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেটাররা। নিজেদের সেই ভাবনা, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ওপেনিংয়ে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে এসেছেন নির্বাচকরা। তার থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের চাহিদা দলের। হাবিবুলের বিশ্বাস, একটু ভিন্ন উপায়ে এই ফরম্যাটে খেলতে পারলে সফলতা আসবে। তিনি বলেন,‘হয়তো আমরা ভিন্ন ফরম্যাটে ক্রিকেট খেলতে পারি। একটু অ্যাটাকিং ক্রিকেটের দিকেও যেতে পারি। আপনারা দেখেছেন নতুন ওপেনার নিয়েছি সেটা পরিকল্পনার অংশ। আমাদের বোলিং সাইড ইজ ওকে। ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য আছে। ব্যাটিংয়ে যদি ধারাবাহিক হতে পারি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ভালো করবে। হয়তো স্টাইলটা একটু চেঞ্জ হতে পারে। বাজ বল বলছি না কিন্তু স্টাইলটা চেঞ্জ হতে পারে।’
এবারের চক্রে বাংলাদেশ ১২টি ম্যাচ খেলবে। মোট ছয়টি সিরিজ। তিনটি দেশের বাইরে, তিনটি দেশের মাটিতে। দেশের বাইরে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার আতিথেয়তা নিয়েছে। পরের দুইটি অ্যাওয়ে সিরিজ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। যা এ বছরেই অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেওয়ার পর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসবে।
এরপর ২০২৭ সালে ইংল্যান্ড দুই টেস্টের জন্য আসবে ফেব্রুয়ারিতে। আর এই সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্র শেষ হবে। ২০২৭ সালের জুনে লিগ টেবিলের শীর্ষ দুই দলকে নিয়ে হবে ফাইনাল। শেষ তিন আসরের মতো ইংল্যান্ডেই বসবে সাতাশের ফাইনাল। সম্ভাব্য ভেন্যু লর্ডস।