শেষ সময়ে এসে আর্জেন্টিনার প্রথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রাথমিক স্কোয়াড হওয়ায় লম্বা তালিকা করেছেন স্কালোনি। ৫৫ জনের এই প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত দল হবে ২৬ জনের। আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক সান্তিয়াগো বেলট্রান। ছয় গোলরক্ষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রিভার প্লেটের তরুণ এই গোলরক্ষক। এ ছাড়া বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো ও হেতাফের জাইদ রোমেরোও জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরির মত ফুটবলাররা। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায়ও নেই দিবালার নাম। যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি দল ঘোষণায় চমক রেখেছেন। লিওনেল মেসিকে নিয়েই আসন্ন বিশ্বকাপেও অংশ নিতে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াড প্রকাশ করেন স্কালোনি। যেখানে তার একটি বার্তা স্পষ্ট তরুণ প্রতিভাবানদের তিনি প্রাধান্য দেবেন। সে কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়নি এমন ফুটবলারও জায়গা পেলেন আলবিসেলেস্তেদের প্রাথমিক তালিকায়। যদিও এটাই চূড়ান্ত নয়, ২৬ সদস্যের মূল স্কোয়াড জমা দিতে হবে ৩০ মে’র মধ্যে। দিবালা যে আগে থেকেই স্কালোনির গুডবুকে নেই সেটি স্পষ্ট। এর বাইরে বারবার চোটের নজির, পারফরম্যান্সের অধারাবাহিকতার বিষয় জড়িয়ে আছে। সর্বশেষ মার্চেও হাঁটুর মেনিস্কাস ইনজুরির জন্য সার্জারি করতে হয়েছে দিবালার। সবমিলিয়ে চলতি মৌসুমে রোমার হয়ে তিনি ২৫ ম্যাচ খেলে ৩ গোল ও ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ইতালিয়ান ক্লাবটিতেও অনিশ্চয়তা রয়েছে দিবালার ভবিষ্যত। ৩০ জুন তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে রোমার। কিন্তু এখনও চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ক্লাব থেকে যোগাযোগ হয়নি এবং সম্ভাব্য শেষ ম্যাচের কথাও জানিয়েছেন দিবালা। তাদের বদলে সুযোগ পেয়েছেন মাতেও পেলেগ্রিনো ও মাতিয়াস সুলে। স্কালোনি চমক দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নতুন করে স্কোয়াডে রেখে। তবে তারা যে অনেকদিন ধরে আর্জেন্টাইন কোচের নজরে ছিলেন তা স্পষ্ট।

হামবুর্গের হয়ে খেলা মিডফিল্ডার নিকোলাস কাপুলদো, গেতাফে ডিফেন্ডার জায়েদ রোমেরো এবং পারমা স্ট্রাইকার মাতেও পেল্লেগ্রিনোকে স্কালোনি প্রথমবার জাতীয় দলে ডেকেছেন। এর বাইরে আরেকটি চমক জিয়ানুকা প্রেস্তিয়ানি। বেনফিকার এই মিডফিল্ডারের বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘হোমোফোবিক’ গালি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে প্রেস্তিয়ানিকে ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে উয়েফা।

মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগেও স্কালোনি চমক রেখেছেন। মিলতোন দেলগাদো এবং থমাস আরান্দার মতো তরুণদের রাখা হয়েছে তালিকায়। বিশেষ করে আরান্দাকে নিয়ে স্কালোনি বেশ প্রশংসাও করেছেন। এ ছাড়া আবারও ফিরেছেন গিদো রদ্রিগেজ, নিকোলাস ডমিঙ্গেজ, আনিবাল মোরেনো এবং এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। গোলরক্ষকদের তালিকায় সবচেয়ে বড় বিস্ময় সান্তিয়াগো বেলত্রান। রিভার প্লেটের এই তরুণ গোলকিপার জায়গা পেয়েছেন ছয়জনের তালিকায়। যদিও বেলত্রানের সামনে আছেন অভিজ্ঞ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো, ওয়াল্টার বেনিতেজ এবং ফাকুন্দো কাম্বেসেস। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য স্কালোনি শেষ পর্যন্ত কাদের রাখেন সেখানেও নিশ্চিতভাবে চমক অপেক্ষা করছে!

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল:

গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্শেই), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রাসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলট্রান (রিভার প্লেট)

ডিফেন্ডার: অগুস্তিন গিয়াওয়াই (পালমেইরাস), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট জিলয়েস), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হের্মান পেজেয়া (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্শেই), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), লাউতারো দি ললো (বোকা জুনিয়রস), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গাব্রিয়েল রোহাস (রাসিং ক্লাব)

মিডফিল্ডার: মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়রস), গিদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়রস), অ্যালান ভারেলা (পোর্তো), এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এক্সেকুয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস দোমিঙ্গেজ (নটিংহাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (রাসিং ক্লাব ডি স্ট্রাসবার্গ)

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়রস), নিকোলাস গনজালেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ক্লদিও এচেভেরি (গিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), জুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতেও পেলেগ্রিনো (পার্মা)।