মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গগনবিদারি গর্জনে অবসান হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মহাকাব্যিক এক ফাইনালের। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নতুন বিশ্বরাজা নির্বাচিত হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন! এই অবিস্মরণীয় ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে একই সাথে উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপের ‘ডাবল’ মুকুট মাথায় পরল স্প্যানিশ আর্মাডারা। তবে স্পেনের এই সোনালী প্রজন্মের মহাবিজয় কেবল সোনালী শিরোপাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছে তারা!

ইতালিকে ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় স্পেন

মেগা ফাইনালে নামার আগেই স্পেনের সামনে ছিল ইতিহাস ছোঁয়ার সুযোগ। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এক অবিশ্বাস্য ও অতিমানবীয় কীর্তি গড়েছে লা রোহারা। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এই রেকর্ডের একক মালিক ছিল ইতালি। চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতালির সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিল স্পেন। আর মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ইতালিকে সিংহাসনচ্যুত করে এককভাবে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখে নিল তারা।

স্পেনের অপরাজেয় পথচলা

সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হারের মুখ দেখেছিল স্পেন। এরপর আর কোনো দল ‘লা রোজা’দের হারাতে পারেনি। এই দীর্ঘ পথচলায় তারা তুলে নিয়েছে ২৮টি জয় এবং ১০টি ড্র। এই অবিশ্বাস্য কীর্তির মাধ্যমে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন সম্পূর্ণভাবে স্পেনের পকেটে।

চেনা তিকিতাকায় কুপোকাত বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে চলা স্পেন ফাইনালেও তাদের চেনা তিকিতাকা আর হাই-প্রেসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল। মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি, দানি অলমো এবং আক্রমণভাগের ওয়ান্ডারকিড লামিনে ইয়ামালদের গড়া একের পর এক বিধ্বংসী আক্রমণ রুখতে আর্জেন্টাইন ডিফেন্সকে চরম পরীক্ষা দিতে হয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ড্যালাস থেকে নিউ জার্সি—পুরো আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে নিশ্চিত হয় স্প্যানিশ ফুটবলের রাজত্ব।

ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের এই দলটির নিখুঁত ও পরিকল্পিত ফুটবল কৌশল ইতিহাসসেরা আধিপত্যের এক জীবন্ত প্রমাণ। বিশ্বজয়ের রাজমুকুটের পাশাপাশি টানা অপরাজিত থাকার এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিকট ভবিষ্যতে আর কোনো পরাশক্তি ভাঙতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়ে গেছে তুমুল আলোচনা!