জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতির অনুমতি ও সম্মতি ছাড়াই তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম জানিয়েছেন, ওই বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তা তাঁর সম্মতি ও অনুমোদন ছাড়া প্রচার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রত্যাখ্যান বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রত্যাখ্যান বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি বিবৃতি নজরে এসেছে। সেখানে সভাপতির স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও ওই বিবৃতি তাঁর সম্মতি ও অনুমোদন ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চূড়ান্ত করা হয়নি। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রচার করা হবে। এ সময় ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যটিকে ফোরামের অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
এর আগে প্রচারিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে একটি টকশোতে দেওয়া মারুফ মল্লিকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়, টকশোতে উপাচার্যকে ‘সাদা দলের’ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাস্তবতাবিবর্জিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ নামে শিক্ষকদের কোনো সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম নেই। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ রয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক কামরুল আহসান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৪ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংগঠনের সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি নেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, জাবি উপাচার্যকে নিয়ে আলোচিত ওই মন্তব্যটি এর আগে একটি টকশোতে করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিক। প্রতিপক্ষ বক্তার বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিয়াজ সাহেব যেহেতু জামাতি ট্যাগ খেয়েছেন, তাকে যোগ্য বলা হচ্ছে।’
এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রসঙ্গে মারুফ মল্লিক বলেন, ‘তারা সব ভিসি নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি নিয়ে তারা কখনো কোনো কথা বলবেন না। জাহাঙ্গীরনগরের ভিসিও কিন্তু বিএনপির দলীয়। জাহাঙ্গীরনগরের ভিসিকে নিয়ে যদি আপনি কোনো সমালোচনামূলক লেখালেখি দেখেন, সব শিবিরের লোকজন আপনার বিপক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, বটবাহিনী গালিগালাজ করে ভাসিয়ে দেবে।’
তবে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের প্রত্যাখ্যান বিবৃতির পর ওই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত বক্তব্যকে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গন
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে বিভক্তি
সভাপতির সম্মতি ছাড়াই সভাপতি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের অভিযোগ