লিভারের জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগে শেষ পর্যন্ত ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদের মেয়ে এবং কিংবদন্তি দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি। সেই সূত্রে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও কারিনার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। তার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে।

প্রিয় সন্তানের মৃত্যুতে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত মধ্যরাতে ফেসবুকে দেয়া পোস্টে কায়সার হামিদ মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়ে কারিনা কায়সার আজ শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে মাত্র ৩১ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’

একই পোস্টে আবেগঘন হয়ে কায়সার হামিদ লেখেন, ‘মৃত্যু অনিবার্য, আমাদের সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম-মৃত্যু আল্লার হাতে। আমরা সবাই দিন-রাত মহান আল্লাহর দরবারে কারিনার জন্য দোয়া করেছি। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে শুধু এটুকুই বলি, হয়তো মহান আল্লাহ আর তাকে কষ্ট দিতে চাননি। তাই নিজ রহমতের ছায়ায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন। অত্যন্ত সরল সোজা, খোলা মনের, হাসি খুসি সুন্দর মনের মেয়েটিকে আল্লাহ পাক যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। নূরে পরিপূর্ণ করে দেন এবং সেই সাথে আমার পরিবারের সকল সদস্যসহ তার অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাক্সক্ষী সবাইকে এই অসহনীয় শোক তার অকাল মৃত্যুতে ধৈর্যের সাথে বহন করার তৌফিক দান করেন।’

মৃত্যুকালে কারিনা কায়সার বাবা-মা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। তিনি বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি।কয়েক দিন ধরেই লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।