যশোর সংবাদদাতা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাজারে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছে।

তিনি আরও বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং সেল না থাকায় ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন খাতে সিন্ডিকেট, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এসব অপসংস্কৃতি ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জনগণের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে সিন্ডিকেট, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মোবারক হোসাইন বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত সাবলীল ও দায়িত্বশীলভাবে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতার ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, আমরা অন্যদের মতো বিরোধী দল হবো না, কারণ আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিটি ভালো উদ্যোগে সরকারকে সহযোগিতা করবে। তবে কোনো সরকার যদি জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নেয় কিংবা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

রাষ্ট্রের উন্নয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। অথচ আন্তর্জাতিক মানের পর্যাপ্ত ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখনো দেশে গড়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জাপান সরকারের কাছে বাংলাদেশে একটি আধুনিক ক্যান্সার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেখানে শুধু রোগের চিকিৎসাই নয়, দেশীয় চিকিৎসকরাও আধুনিক চিকিৎসা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে দেশের মানুষ বিরোধী দলের নামে দীর্ঘ হরতাল, ওয়ার্কআউট ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং গঠনমূলক, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর শায়খ ড. মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল এমপি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবু সাদেক, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর ছিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক শামসুজ্জামান, মনিরুল ইসলামসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।