রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। গতকাল বুধবার রিহ্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড সভার মাধ্যমে নতুন কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

নতুন কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. আলী আফজাল এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। তারা আগামী দুই বছর সংগঠনটির নেতৃত্ব দেবেন।

বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ এফ এম উবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং চট্টগ্রাম রিজিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসানসহ অন্যান্য পরিচালকরা।

এর আগে, গত ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্যদের সরাসরি ভোটে সাতজন অফিস বেয়ারার ও ২২ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। আপিল কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে।

নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ, উম্মে জাহান আরজু, হাবিবুর রহমান হাবিব, এ জেড এম কামরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম, মো. খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী, শেখ কামাল, মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল, ড. এন. জোহা, আলহাজ্ব প্রফেসর মো. ফারুক আহমদ, তাসনোভা মাহবুব সালাম, মো. জহির আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তফা কামাল, মো. এমদাদুল হক, মো. মাহবুবুর রহমান, এম ফখরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ফরহাদ ফিলিপ, সুরুজ সরদার, আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, এ এস এম আব্দুল গফফার মিয়াজী এবং সারিস্ত বিনতে নুর।

সভায় সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও বিদায়ী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা নবনির্বাচিত নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কমিটির নেতারা আবাসন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বিশেষভাবে কৃষিজমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কৃষিজমি দ্রুত কমছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় টেকসই ও পরিকল্পিত নগরায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এছাড়া, ঢাকার আশপাশে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তারা। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, উঁচু ভবন নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নির্মাণ ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আবাসন খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প অনুমোদনের জটিলতা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।