যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন। পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে স্বামীর মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন চৌগাছা উপজেলার মডেলপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইসমাইলের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬) এবং তাঁর স্ত্রী সাবিরা খাতুন (৩৩)।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রশিদ রোববার সকালে মোটরসাইকেলযোগে স্ত্রী সাবিরা খাতুনকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যশোর শহরের দিকে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা যশোর সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্টের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাবিরা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।
এরপর স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্বজনরা জানান, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা আর হলো না। দুর্ঘটনাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল ও বাড়িতে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।