ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট হজ্বযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আটটি ফ্লাইটে প্রায় তিন হাজার যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। রাতে আরও আটটি ফ্লাইট সৌদী যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, বিকেল ও রাতের ফ্লাইটে সৌদী আরব যেতে আরও হাজারো হজ্বযাত্রী আশকোনার হজ্ব ক্যাম্পে জড়ো হয়েছেন। তারা এখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে একে একে নিজ নিজ ফ্লাইটে যাচ্ছেন। আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। তবে ক্যাম্পে মশার উপদ্রব এবং গরমে অনেকে অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন।

সৌদী সরকার ঘোষিত হজ্ব ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুসারে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ থেকে হজ্ব ফ্লাইট শুরু হয়েছে। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ্ব ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী ফ্লাইটে সৌদি গেছেন ৪১৯ জন হজ¦যাত্রী।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪ টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ফ্লাইটে হজ্বযাত্রী ছিলো ৪১৯ জন। বিমানবন্দরে বাংলাদেশী হজ্বযাত্রীদেরকে অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম।

হজ¦যাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ্ব অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি ও হাজীদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ¦ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ফ্লাইটে গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির জন্য তাদের কাছে দোয়া চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।”

আল্লাহর মেহমানদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি। তিনি আগামী বছর থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজে¦র খরচ কমানোর আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই হজ¦ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজগুলো হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি, অন্তত ১২ হাজার টাকা কমানোর চেষ্টা করেছি। আগামী বছর যাতে আরো খরচ কমাতে পারি, কম খরচে যাতে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।

এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হজ¦যাত্রী সেবা কাজকর্ম মনিটরিংয়ে গভীর রাতে হজ্বক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

হজ¦যাত্রী সেবা কাজকর্ম মনিটরিংয়ে গভীর রাতে হজ্বক্যাম্পে যান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টায় তিনি রাজধানীর আশকোনায় হজ্বক্যাম্পে প্রবেশ করেন।

মন্ত্রী হজ্বযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসমূহের ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন।

মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়াতে গিয়ে হজ্বযাত্রীদের সাথে কথা বলেন এবং হজ¦ক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছে জানতে চান। তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজ্বযাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী। হজ্বক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজ্বযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

হজ¦যাত্রীরা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ্বযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সাথে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজ্বযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজ্বক্যাম্প ত্যাগ করেন।