ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করে দিতে দেশটিতে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক বিমান হামলার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনায় ১০ থেকে ১৪ দিনের ধারাবাহিক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমন সময় এই পরিকল্পনার খবর সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় সেন্টকম সদর দপ্তর থেকে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতি তদারকি করছেন এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন।
অ্যাডমিরাল কুপারের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অন্যতম দিক হলো “গো বিগ” বা বড় আকারের হামলা। তার যুক্তি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত ধ্বংস করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনও কমে যাবে, কারণ তখন ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তবে এ পরিকল্পনা এমন সময়ে নেয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সব সক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব নয়। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে ৭৫৯টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও দুর্বল হতে পারে এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য চীন-সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা: কুয়েতের আহমেদ আল জাবের বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এমনটাই দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন দিয়ে ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আহমেদ আল জাবের বিমানঘাঁটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে অভিযান, নজরদারি কার্যক্রম এবং সামরিক রসদ সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কুয়েত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘মূল্য দিতে হবে’ যুক্তরাষ্ট্রকে
ইরানের কেশম দ্বীপে আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার বেসামরিক মানুষের ওপর অপরাধ চালাচ্ছে এবং এর জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন নতুন কোনো না কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তার অভিযোগ, কেশমের আবাসিক এলাকায় হামলাও বেসামরিক মানুষের ওপর চলমান আগ্রাসনের আরেকটি উদাহরণ।
গালিবাফ বলেন, কেশমে বেসামরিক এলাকায় হামলার ঘটনা এর আগের মিনাব ও লামের্দের ঘটনার ধারাবাহিকতা। তার দাবি, এসব হামলার মাধ্যমে একটি সহিংসতার চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে নিরীহ মানুষ বারবার সংঘাতের শিকার হচ্ছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থতার মুখে পড়লে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরানোর পথ বেছে নেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেশমে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে এবং যারা নিরীহ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। গালিবাফ আবারও বলেন, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে।