জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের করাচি জোনের দায়িত্বশীলা ডা. সীমা মালিকের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সাথে সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকারে মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি, ডা. সীমা মালিককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে, বিগত পাকিস্তান সফরের কথা স্মরণ করে ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে তার এই সফর দুই দেশের নারীদের মাঝে কাজের অগ্রগতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন । ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নারীদের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়বে এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় আইটি বিভাগীয় সেক্রেটারী মাহবুবা জাহান এর সঞ্চালনায় কুরআন তেলাওয়াত করেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ইরানী আক্তার এবং অনুবাদ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জান্নাতুল কারীমা সুইট।
এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিভাগের রাজনৈতিক বিষয়ক সেক্রেটারি ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে একটি সুশৃঙ্খল দল মনে করে। দাওয়াত ও সামাজিক কাজে জামায়াতে ইসলামীর প্রসংসনীয় ভূমিকার কারনে দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল উম্মে আরওয়া । তিনি ছাত্রী অঙ্গনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি এই অঞ্চলের নারী ও ছাত্রীদের জন্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মহিলা বিভাগের বিদেশ বিভাগীয় সেক্রেটারি খোন্দকার আয়েশা খাতুন বিগত সময়ে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ওপর জুলুম নির্যাতনের বর্ননা তুলে ধরে বলেন, আমরা যদি আপোষ করতাম তাহলে আমাদের শীর্ষনেতৃবৃন্দকে এমন অবর্ণননীয় নির্যাতনের শিকার হতে হতো না।
জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের করাচি জোনের দায়িত্বশীলা ডা. সীমা মালিকে তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে আলাদা। পাকিস্তানের সামন্তবাদী সিস্টেমের কারনে আমাদের দেশে নিজেদের কোন ইয়ং পলিটিক্যাল ইউনিয়ন গড়ে উঠছে না। আমাদের জানা প্রয়োজন বাংলাদেশে তরুনদের জাগরণের উৎস কি? আপনারা সমসময়িক সময়ে নারীদের মাঝে যে গ্রহযোগ্য তৎপরতা চালিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কার্যকমের ব্যাপারে তার এই সফরের অভিজ্ঞতা নিজ দেশের নারী আন্দোলনে কাজে আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এমপি, সহকারী সেক্রেটারী সাঈদা রুম্মান, মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারী সাবিকুন্নাহার মুন্নি এমপি, প্রচার, মিডিয়া ও সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারী নাজমুন নাহার নীলু এমপি, সমাজ কল্যান বিভাগীয় সেক্রেটারী খন্দোকার আয়শা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যা সালমা সুলতানা, রোজিনা বেগম, সুফিয়া জামান, আমেনা বেগম, উম্মে খালেদা জাহান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া ।