• গঙ্গা চুক্তির উপরে নির্ভর করছে ঢাকা-দিলীøর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক?
  • আনুষ্ঠানিক বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা
  • জুনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যু আবারও দুই দেশের ভূ-রাজনীতি ও দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। আগামী ১১ ডিসেম্বর ২০২৬-এ শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ। গঙ্গা নদীর ওপর দেশের ৩৭ শতাংশ ভূখণ্ড, ২৬টি জেলা এবং বিশাল এক কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থা নির্ভরশীল হওয়ায় চুক্তিটির ভবিষ্যৎ কাঠামো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিদ্যমান চুক্তিতে কোনো ‘স্বয়ংক্রিয় নবায়ন ধারা’ না থাকায় সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নতুন সিদ্ধান্ত পৌঁছানো আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় একটি ১০ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠনসহ যৌথ নদী কমিশনকে জেআরসি নতুন করে পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যৌথ নদী কমিশন- জেআরসি সূত্রে এইসব তথ্য জানাযায়। পানি ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আলোচনার সাফল্যের উপরে নির্ভর করছে ঢাকা-দিল্লীর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে। তাদের প্রশ্ন এবার গঙ্গা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে তো ঢাকা? কারণ চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসলেও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও ফারাক্কা পয়েন্টে যৌথ পরিদর্শনের কাজ শেষ হলেও চুক্তির নবায়ন ইস্যুতে জুনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব পাঠানোর পর প্রায় দুই মাস পার হতে চললেও ভারত এখনো বৈঠকের সময় চূড়ান্ত করে জবাব পাঠায়নি।

সূত্রে জানাযায়, গঙ্গা চুক্তির নতুন রূপরেখা ও সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার জন্য সরকার প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস আইনুন নিশাত, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, পানিসম্পদ সচিব এ কে এম সাহাবউদ্দিন, পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক আতাউর রহমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একই সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ১২ সদস্যের যৌথ নদী কমিশনকে (জেআরসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মূল প্রস্তাবনা চুক্তিটির পুরোপুরি সংস্কার, আংশিক পরিবর্তন নাকি স্রেফ মেয়াদ বৃদ্ধি হবে—তা এখনো কৌশলগত কারণে চূড়ান্ত করা হয়নি।

কমিটির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “আমরা গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে আলোচনার বার্তা পাঠাই। বর্তমানে চুক্তি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য আমরা দিল্লির আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় আছি।”

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল গঠন করেছে। দলটি শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতকে অবহিত করবে। নদীতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সঠিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব। এ কারণে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে।

ভারতের লোকসভা সূত্রে জানাযায়, ভারতের লোকসভায় এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে চুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের লোকসভার জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি (যার নেতৃত্বে রয়েছেন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শশী থারুর) তাদের ১৫তম প্রতিবেদনে চুক্তি নবায়নে বিলম্ব নিয়ে ভারত সরকারকে সতর্ক করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির ১৫তম প্রতিবেদন (জুলাই ২০২৬) বলা হয়, “গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তা দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা কমাবে। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করার যে উদ্যোগ চলছে, এই বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে তা দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।” পাশাপাশি ভারতের বিহার রাজ্য সরকার শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কার কারণে তৈরি হওয়া পলি ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি বিহার সরকারের স্থানীয় পানির চাহিদা ও পলি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং পানি ইস্যুতে ঢাকা তথ্যনির্ভর ও বাস্তবসম্মত কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুভিত্তিক। তবে গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর হিস্যা সরাসরি আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের সাথে যুক্ত। আমরা দিল্লির সাথে ভালো এবং পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে চাই। কারিগরি কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর ঢাকার পক্ষ থেকে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।”

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, “উভয় দেশের কারিগরি দলগুলো গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং গ্যারান্টি ক্লজ-সহ অন্যান্য নতুন শর্ত অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে রয়েছে। তিস্তা বা গঙ্গার মতো পানি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো যেন দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

বাংলাদেশ ও ভারতের পানি বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটির আধুনিকায়নে একাধিক সুপারিশ ও সতর্কবার্তা তুলে ধরেছেন। ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, “শুধুমাত্র ফারাক্কা পয়েন্টে কত কিউসেক পানি দেওয়া হলো তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী নদীর স্বাস্থ্য রক্ষা করা যাবে না। উজান থেকে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে গঙ্গা চুক্তির নবায়নে জোর দিতে হবে। অভিন্ন নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সকল দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নীতি ও আইনি কাঠামোর আলোকে পরিচালিত হতে পারে।

পানি ও পরিবেশ বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে পানি প্রবাহ কমে গেলে কোনো ন্যূনতম পানির ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল না। নদী শুকিয়ে গেলে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর বিষয়টি ছেড়ে দেওয়ার যে বিধান ছিল, নতুন চুক্তিতে তার পরিবর্তন এনে সুনির্দিষ্ট ন্যূন্যাতম পরিমাণের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। গত ৩০ বছরে গঙ্গা অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেছে এবং উজানে পানির অপব্যবহার বেড়েছে। নতুন চুক্তিতে ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন নীতি থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ সফল করতে হলে বর্ষার পানি ধরে রাখা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ বজায় রাখার মতো স্থায়ী কাঠামোগত নিরাপত্তা চুক্তিতে যুক্ত করা প্রয়োজন। যেহেতু ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাই পুনর্গঠিত কারিগরি কমিটি ও বিশেষজ্ঞরা নতুন চুক্তিতে “গ্যারান্টি ক্লজ” যুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন, যেন শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ ফারাক্কায় যাই থাক না কেন, বাংলাদেশ তার চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত ন্যূনতম পানি নিশ্চিতভাবে লাভ করে।

যৌথ নদী কমিশন সূত্রে জানাযায়, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিদল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিলীøতে জেআরসি-এর চূড়ান্ত প্রোটকল বৈঠক শেষ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কারিগরি পর্যবেক্ষণের কাজ চলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের গঠিত পুনর্গঠিত ১২ সদস্যের জেআরসি কমিটি দিলীøর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে আহ্বান করার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নতুন খসড়া আনুষ্ঠানিক বিবেচনার জন্য রাখা হবে।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা বাঁধের আরও উজানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে (যেমন উত্তর প্রদেশ ও বিহারে) পানি সেচ ও অন্যান্য কাজে বিপুল পরিমাণ পানি সরিয়ে নেওয়ার ফলে ফারাক্কা পয়েন্টে পৌঁছানোর আগেই মূল গঙ্গায় পানিপ্রবাহ অনেক কমে যায়। একাধিক বছর এপ্রিলের তীব্র শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ কিউসেকে নেমে আসে। সে সময়ে চুক্তির সূচি অনুযায়ী ৩৫,০০০ কিউসেক পাওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ বাস্তব ক্ষেত্রে ২৫,০০০ থেকে ২৭,০০০ কিউসেক বা তারও কম পানি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক পানি, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং মানারাত ইন্টান্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, গঙ্গা চুক্তির আলোচনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন আটকে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে হবে। কারণ ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতায় তা আটকে যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যার মধ্যে কেবল গঙ্গাতেই পানি বণ্টন চুক্তি বিদ্যমান। ফেনী, মুহুরী, ধরলা, দুধকুমারসহ অভিন্ন নদীগুলোতে একক চুক্তির বদলে একটি “সমন্বিত অববাহিকা ভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা” গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং তা নবায়নের প্রস্তুতি বাংলাদেশের জন্য একই সাথে একটি কূটনৈতিক পরীক্ষা ও ঐতিহাসিক সুযোগ। তথ্যভিত্তিক শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে নতুন বিজ্ঞানভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান করবে এবং একই সাথে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন আস্থার ভিত্তি গড়ে তুলবে।