স্টাফ রিপোর্টার
দিল্লীর সঙ্গে আঁতাতের কারণেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল-মিটিং করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত একটি দল কীভাবে সারাদেশে মিছিল-মিটিং করার সুযোগ পাচ্ছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শ্রমনীতি: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অনন্য আদর্শ’ শীর্ষক জাতীয় সিরাত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই সনদ গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হলে তা জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে জনগণ ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। জুলাই সনদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে দেশকে পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। জুলাই হত্যাকা-ের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা করা যাবে না।
শ্রমনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের দুঃখী, অনাহারী ও নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য অনুসরণীয়। মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নীতি অনুসরণ করলে শ্রমক্ষেত্রে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, ইসলাম শ্রমিক ও মালিককে পরস্পরের ভাই হিসেবে বিবেচনা করে। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও শ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা মালিকের দায়িত্ব। একইভাবে শ্রমিককে সততা, দায়িত্বশীলতা ও আমানতদারির সঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রমিককে শুধু উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে দেখলে হবে না; তার পরিবার, জীবনযাপন, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিক-মালিককে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানিয়ে শ্রেণিসংগ্রামের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের যে মতবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ইসলামী শ্রমনীতির লক্ষ্য মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং ন্যায় ও দায়িত্বের ভিত্তিতে উভয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের অধিকার, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারÑসবকিছুকে একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে বৈষম্য দূর হবে না। শ্রমিক-মালিক, কৃষক-জনতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, ড. আবুল কালাম আজাদ (বাশার), মুফতি আলী হাসান ওসামা, অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, অধ্যক্ষ ড. মাওলানা হিফজুর রহমান, অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দসহ অনেকে।