এক বছর পেরিয়ে গেলেও মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হয়নি। শুধু আছিয়া নয়, আলোচিত আরো বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা আদালতে ঝুলে আছে। চাঁদপুরের সিরিয়াল কিলার ও ধর্ষক রসু খাঁ, সাভারের সীমা ধর্ষণ ও হত্যা, সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও কুমিল্লা সেনানিবাসে (ক্যান্টনমেন্ট) কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যাসহ চাঁঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি মামলার রায় আইনি জটিলতায় কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ রাজধানীর মিরপুরে ফুটফটে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আবারও বিচারে ধীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচার হীনতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে- ধর্ষণের মতো অপরাধের রায় দ্রুত কার্যকর না হওয়ায় অপরাধীরা এধরণের জঘন্য কাজে উৎসাহিত হতে পারে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আইনের শাসন থেকে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। তারা দেখছে-একের পর এক ধর্ষণ, হত্যাসহ নৃশংস ঘটনা ঘটে গেলেও অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার হয় না। এমনকি কখনো কখনো মামলার বাদি, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকেই খেসারত দিতে হয়। আর যে কারণে সদ্য সন্তান হারানো শোকার্ত বাবা গণমাধ্যমে, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটি বৃহত্তর অর্থে নাগরিক ক্ষোভের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে। শুধু দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় বিচারহীনতা নিয়ে নাগরিকদের মনে এমন গুরুতর আস্থাহীনতা জন্ম দিয়েছে। মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আছিয়ার মা সম্প্রতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। শিশুটির মা আয়েশা খাতুন বলছেন, ‘মেয়েটা মারা গেছে অনেক আগেই, কিন্তু এখনো খুনির ফাঁসি দেখলাম না’। গত বছরের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। বিচারিক আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের আপিলে আটকে আছে। ফলে কবে রায় কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবার।
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার ঘটনাটি যেমন নাড়া দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে, তেমনি গত একমাসে আরো অন্তত তিনটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে। এই শিশুদের প্রত্যেকেরই বয়স চার থেকে দশ বছরের মধ্যে। গত ছয়ই মে থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুরা এমন নৃশংসতার শিকার হয়েছে। জানা যায়, গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর লামিয়া আক্তার নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার নবম শ্রেনির শিক্ষার্থী মুরশালিন জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ। ওই ঘটনার দুইদিন পরে ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। গত ১৯ মে পাবনার চাটমোহরে টাকার প্রলোভন ও ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে নেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ৬ মে সিলেটের জালালাবাদ এলাকার একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে। এই ঘটনায়ও চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরাগে গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় একটি শিশুর রক্তাক্ত ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ওই শিশুটিও ধর্ষণচেষ্টার শিকার ও পরে শ্বাসনালী কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দশ বছরের নিচে বয়স ওই শিশুটিও মারা যায়। গত বছরের (২০২৫)শুরুতে মার্চ মাসে এই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল পুরো বাংলাদেশ। এইচআরএসএস মানবাধিকার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অনুসন্ধান ও একাধিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যঅনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন। গত দুই সপ্তাহে ধর্ষণের পর অন্তত চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৮ কন্যাশিশু।
অপরাধ বিশ্লেষক, সমাজবিজ্ঞানী, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয়; দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। মাদকাসক্তির বিস্তার, বিকৃত, অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তাদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় থাকে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে। চলতি মাসে ২০ দিনে (১ থেকে ২০ মে পর্যন্ত) ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৪ শিশু। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ১২ জন এবং ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৫ হাজার ৯৫৮টি মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, গত বছর ২ হাজার ৮০৮ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কন্যাশিশু ছিল ১ হাজার ২৩৪ জন। নারী ১ হাজার ৫৭৪ জন। এর মধ্যে ৫৪৩ কন্যাশিশু ও ২৪৩ নারী ধর্ষণের শিকার হন। ১৮ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ শিশু আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ১৪৭ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অপরাধের সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দরিদ্র ভুক্তভোগীদের মামলা চালানোর সামর্থ্যের অভাব এবং আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির কারণে এসব অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাগুলো কিছুদিনের জন্য আলোচনায় এলেও, আড়ালে থাকা অসংখ্য ঘটনা বছরের পর বছর ধরে হিমাগারে পড়ে থাকে। এমনকি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ঘটনাগুলোও সহজে বিচারের মুখ দেখে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো চূড়ান্ত বিচারের আলো দেখেনি।
এদিকে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শিশু রামিসা হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। শিশু আছিয়া ও রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রগতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। তাই সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। এসময় তিনি ধর্ষক ও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, রামিসার নৃশংস হত্যাকারীদের প্রকাশ্য ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মহিলা বিভাগ। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক। আমরা অবিলম্বে এই ঘাতক দম্পতিকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়। এসময় বক্তারা সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধীদের আশকারা পাওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে খুনিদের ফাঁসি কার্যকরের জোরালো দাবি জানান।
এছাড়া গতকাল শুক্রবারও শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নারী-শিশুর প্রতি চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। কর্মসূচি থেকে বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এসব ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
অপরদিকে, এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন সাম্প্রতিক রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পরও কেন আবার সাত দিনের তদন্তের সময় দেওয়া হলো। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রামিসার হত্যাকারী অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে। সাথে আরও কেউ জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এক সপ্তাহের মধে রামিসার হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন
পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। সাংবাদিকদের হোয়াটসএপের এক গ্রুপে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম এই তথ্য জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান বলেছেন, দ্রুততম ময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার গঠনের পর থেকে এ ধরনের প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেছেন, সাধারণত কোনো ঘটনা পুলিশে রিপোর্ট হলে সেই অনুযায়ী তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা নেই। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্রিমিনাল ডাটা ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেম নামে একটি সফটওয়্যারে অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।