• টেকনিক্যাল টিম দিয়ে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার
  • জ্বালানি সংকট বিগত সরকারের ভুলনীতি ও দুর্নীতির ফসল - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • আরেকটু ধৈর্য ধরার আশ্বাস বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবে জাতীয় সংসদে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ক্রেডিট ছাড়াই জনগণের দুর্ভোগ লাগব করার জন্য টেকনিক্যাল টিম দিয়ে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ সমস্যা সমাধানের জন্য ধৈর্য্য ধরার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ৬৮বিধিতে প্রস্তাব আনেন যে, তীব্র জ্বালানী ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

প্রস্তাবের উপর সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে স্পীকারের দায়িত্বপালনকারী ডেপুটি স্পীকার কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের বিষয়ে যেখানে দু:খ প্রকাশ করেন। সেখানে কোন কোন মন্ত্রী বলেন, তার(কেবল) লম্বা এজন্য বিদ্যু নেই।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেকগুলো আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী থেকে তার বাস্তবায়ন চাই। তবে কনফিউশন হয়, যখন এই সংসদে দেওয়া খোলামেলা আশ্বাসটা বাস্তবায়ন আমরা দেখি না। যেমন মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ আর নেওয়া হবে না; কিন্তু নেওয়া তো হচ্ছে। যেমন এই সংসদে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দারুণ একটা সুসংবাদ জাতিকে শুনিয়েছিলেন— খুনি বেনজীর আহমেদকে আমরা অ্যারেস্ট করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এখন দেখলাম যে হাতের গ্রিপটের ভিতর থেকে কোন ফাঁক দিয়ে যেন উনি চলে গেলেন! আমরা যদি সক্ষম হয়ে থাকি, তাহলে তিনি বের হয়ে গেলেন কীভাবে? এ খাঁচার পাখি তো বের হওয়ার কথা না। তারপরেও অনেকগুলো উদ্যোগের কথা উনারা বলেছেন, সবই ফিউচার, প্রেজেন্ট না। এই সংসদেই বলা হয়েছিল ভুতুড়ে বিল যেটা এসেছে, গণশুনানি করে তার সমাধান হবে। কোনো সমাধান হয়নি, এটা কন্টিনিউ করছে। এই জায়গাগুলোকে যদি আমরা নিশ্চিত না করতে পারি, জবাবদিহিতার জায়গাটা যদি আমরা স্বচ্ছ না করতে পারি, তাহলে আমাদের প্ল্যান যত সুন্দর, যত বড় হোক—সবগুলা কিন্তু ব্যর্থ হবে।

একজন প্রতিমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, যে সাবেক সরকার পোষ্যদের লালন করার জন্য, ফ্যাসিলিটেট করার জন্য অনেকগুলা সুযোগ তাদেরকে করে দিয়েছিল। আমরা নতুন করে আবার কোনো পোষ্যদের হাতে পড়তে চাই না। এটাকে এসার্ট করতে হবে। এটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, ডিরেক্ট-ইনডিরেক্ট কোনোভাবেই না; পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ কোনোভাবেই না। এই দুষ্টচক্র থেকে জাতি যদি বের হতে না পারে, এই জাতির কোনো নিস্তার নাই, কোনো মুক্তি নাই। সাধারণ মানুষ দেশের বড় কোনো ক্ষতি করতে পারে না। ক্ষতি করে বড় ব্রেনওয়ালা মানুষগুলোই বড় ক্ষতি করে। এই সংসদে আমরা যারা আছি, আমরা বসে নীতি বানাই; কিন্তু সেই নীতি আমরা নিজেরাই লঙ্ঘন করি। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে না আসলে তো হবে না।

তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ—আমার জানার আগ্রহ যে আমি তো শুনেছিলাম কুইক রেন্টাল যে সমস্ত প্লান্টগুলা তৈরি করা হয়েছিল, বেসিক্যালি তাদের সাথে ৩ বছরের একটা কন্ট্রাক্ট হয়েছিল। তো এখন তো তার অনেক দিন গড়িয়ে গেছে। ক্যাপাসিটি চার্জটা ক্যালকুলেট করা হয় তার এস্টাবলিশমেন্ট কস্টের বিষয়টা মাথায় রেখে। ৩ বছরের ভিতরে তারা তো এটা পেয়ে গেছে। এরপরেও এটা কন্টিনিউ করে কেন? বিএনপি তাদের ইশতেহারে, বক্তব্যে তারাও বলেছিলেন যে এই বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তো অ্যাড্রেস করা গেল না। এটা অবশ্যই অ্যাড্রেস হওয়া উচিত। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। যদি তাদের ডিউলি পেতেই হয়, তাহলে সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা বারবার বলে আসছি—এর মাধ্যমে জনগণের টাকা ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে, চুরি হয়ে যাচ্ছে, পিলফারেজ হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু বন্ধ তো হচ্ছে না। এখন অতীতকে শুধু দোষারোপ করে যদি তার কোনো সমাধানে যাওয়া না হয়, তাহলে নতুন করে এই ধরনের আরো দুষ্টচক্র তৈরি হবে যে এগুলো করা যায়, এই দেশে কোনো আইন-কানুন মানতে হয় না, কোনো আইন-কানুন আমার জন্য প্রযোজ্য হবে না। এটা মামা-খালু দিয়ে একবারে কাভারেজ দিয়ে দেওয়া যাবে। এই জায়গাটা আমরা চাই যে বন্ধ হোক।

তিনি আরো বলেন, আজকে অনেকগুলো ভালো ভালো মানে প্রস্তাবের কথা আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীও বললেন। হয়তো আশা করছি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী যিনি, তিনি আরো কিছু আশার বাণী আমাদেরকে শোনাবেন। আশার ভেলায় তো চড়ছে জাতি, এটাকে বাস্তব রূপ দেওয়াটা আমরা দেখতে চাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সরকারি যে অর্থ খরচ হচ্ছে, সেই অর্থের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। পারিবারিক প্রতিষ্ঠান—যেখানে সরাসরি কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট আসে, সেই বিষয়গুলো জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা অনুরোধ করব, এখানে আমরা যারা এসেছি, আল্লাহ তাআলা মিনিমাম আমাদেরকে স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছেন, সামর্থ্য দিয়েছেন। আসুন একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নেই। এখন থেকে নিজে আর নিজের ভাই-ভাতিজার জন্য নয়, যা করব আমরা জাতির জন্য করব। তাহলে শুধু উদাহরণ সৃষ্টি হবে না, আমাদের আগামীর সিকিউরিটিটাও এসার্ট হয়ে যাবে। এবং এটাই তো নিউ বাংলাদেশ হওয়ার কথা ছিল যে অতীতের কোনো ময়লা-গার্বেজ কিছুই থাকবে না। এখন আমরা যদি বলতেই থাকি যে একটু সময় দিতে হবে, একটু সময় দিতে হবে—সময় কখন আসবে? এটা জানার আগ্রহ আছে। একটা কথা আছে, বিড়ালকে প্রথম রাতেই কিন্তু শেষ করতে হয়। তো ইতিমধ্যে সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন। সবগুলো দেশের স্বার্থে আমাদের দৃষ্টিতে না, দেশের স্বার্থের বিপক্ষেও নিয়েছেন; কিন্তু ভেরি র‌্যাডিক্যালি এবং ভেরি অ্যাগ্রেসিভলি সেই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। তাহলে জনস্বার্থের এই পদক্ষেপগুলো নিতে আমাদের দেরি হচ্ছে কেন?

তিনি বলেন, কেন চাঁদাবাজদেরকে বলে দিচ্ছি না যে 'নো, তোমাদের কোনো স্পেস এই সমাজে নাই'? আমরা কেন দুর্নীতিবাজদেরকে ক্লিয়ার মেসেজ দিতে পারছি না যে অতীতে যেটা হয়েছে সেটা পরে চিন্তা করা হবে, কিন্তু এখন থেকে ফ্রেশ স্টার্ট, এখন থেকে দুর্নীতিবিরোধী স্টার্টআপ, এরপরে আর আমরা জিরো টলারেন্স—কাউকে আমরা আর এলাউ করব না? এবং মুখে নয়, এটা বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী সর্ম্পকে বলেন, আমরা উৎসাহিত হই যখন দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। খুব ভালো লাগে, কারণ এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না, একদম প্লেনলি বলতেছি। আমার বোধহয় আরেকটু বেশি খরচ হয়। তিনি সাদামাটা জীবনযাপন করেন, সুন্দর; একেবারে পশ মানে সুটে-বুটে না, তিনি খুব প্লেন পথে চলেন। এটা তো ইন্সপায়ার্ড হওয়ার মতো জিনিস। কিন্তু তাঁর এই বিষয়গুলো নিয়ে যারা অ্যাপ্রিসিয়েশন করেন, তাঁদের গায়ে আবার আমরা উল্টোটা দেখি। তিনি যদি এই সমস্ত মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তো তাঁকে ফলো করা উচিত! সকল ক্ষেত্রে ফলো করা উচিত। তো সেটা তো আমরা দেখি না! আমরা জাস্ট তার রিভার্সটাই দেখি। তো আমরা আশা করি যে এখন থেকে আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর যদি আইকন বলেন, তাহলে ফলো করতে হবে। তবে হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রীও মানুষ, তিনিও ভুলের ঊর্ধ্বে না। তাঁর সব কিছুতে 'হ্যাঁ' বলা যাবে না। 'হ্যাঁ' বলা যাবে শুধু শিশুদের দাবিতে, শিশুরা যা বলবে 'হ্যাঁ'। কিন্তু এরপরে আর সবার জন্য 'হ্যাঁ' নাই, জাস্টিফাই করে 'হ্যাঁ' বলতে হবে। তিনিও যদি তাঁর দ্বারাও যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে থাকে এবং রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে, আমি আশা করব সেখানে গিয়ে কেউ বলবেন না যে 'নেতা, আপনি আচানক ডিসিশন নিয়েছেন! ইতিপূর্বে ইতিহাসে কেউই এরকম ডিসিশন নেয় নাই! আপনি সোনালী মানুষ হয়ে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকবে!'—এই কথাগুলো যেন বলা না হয়। এটা এখন কমে আসতেছে, একটু কার্ভিং ডাউন। প্রথম দিন থেকেই এখানেও, সারা দেশে যেখানে আমাদের তেলের সংকটের কারণে লং মার্চের তেল নিয়ে অনেক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তবে আমি ধন্যবাদ জানাই যে লং মার্চটাকে জাতীয়করণ করার জন্য আজকে মানুষ তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে এই মহান সংসদে উত্থাপন করেছেন, এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। সেই তেলের সংকট হবে না যদি মুখের তেলটা বন্ধ হয়। ওই তেল যতদিন চলবে, তখন সর্ব জায়গাতেই সংকট তৈরি হবে। অতীতে আমরা দেখেছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, সবাই মিলে বলত নেত্রী একদম পূত-পবিত্র, বাকি আশপাশের লোকেরা সমস্যা। কিন্তু যখন নেত্রী ফ্লাই করে চলে গেলেন, এখন বলে যে আশপাশের লোকগুলা ভালো ছিল, নেত্রীর জ্বালাতেই শুধু দেশ ধ্বংস হইছে! দিস ইজ রিয়েলিটি। আরেকটা রিয়েলিটি হচ্ছে—কোনো সরকার যখন বিদায় নেয়, পরবর্তী সরকার আইসাই বলে যে দেশটাকে একদম রসগোল্লা... রসাতলে পাঠাইছে রসগোল্লা খাওয়াই খাওয়াইয়া! এই করেছে, ওই করেছে, দুর্নীতির পাহাড়-পর্বত-হিমালয় গড়েছে। কিন্তু ওই সরকারটাই যখন আবার বিদায় নেয়, তখন একই কথা আবার সমাজ থেকে শুনি। এই সংস্কৃতিটা বদলাতে পারবে বর্তমান সরকার, যদি তারা চান। আমরা চাই তারা উদাহরণ সৃষ্টি করুক।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতা কারো জন্যই চিরস্থায়ী নয়, বিরোধী দলও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়—এই সংসদে তিনবার বলেছি এখনসহ। যে এমনও হতে পারে, সরকারি দল-বিরোধী দল কোনো এক সংসদে দেখা যাবে আমাদের উভয়ের কেউই নাই। এটা সাবেক সরকারি দল এবং বিরোধী দল এখন কেউ নাই এই সংসদে। এটা ন্যায়সঙ্গতভাবে হোক, অসঙ্গতভাবে হোক, এটিই বাস্তবতা—এটা মেনে নিতে হবে। তাহলে বিদায়ের পালাটা হোক সোনালী, গৌরবময়, কালারফুল, রঙিন! বিদায় নেওয়ার পরে যেন লোকেরা পস্তায়, নতুন যারা আসছে যে কেন আমরা বিদায় দিলাম, তাদের তো আমাদের আবার দরকার ছিল! সেই রকম হোক, এটাই আমরা দেখতে চাই। যত হোক, যত আশ্বাস—এগুলা যেন বাতাসে মিলিয়ে না যায়। জনগণ যেন এর সুফল পায়।

তিনি বলেন, আশপাশের লোক গ্রামে যেহেতু বসবাস করে, তাদের জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আজকে অন্তত আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমরা সংকটটা স্বীকার করে নিয়েছি। কিন্তু এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা বলেছেন 'কোনো সংকট নাই, তার লম্বা—এইজন্য সমস্যা হইছে!' এই সমস্ত হাস্যকর কথা বলে জাতির সাথে কোনো ধরনের তামাশা করা আমাদের উচিত নয়। আমি দাবি করব, আমাদের যা আছে, যা নাই—জাতিকে আমরা বলে দিই। 'এইটি আমাদের আছে, এইটুকু আমাদের নাই। নাই যেটা—এটা আমাদের আহরণ করতে এইটুকু সময় লাগবে, আমাদেরকে সময় দেন। আমরা ধাপে ধাপে এটা উন্নয়ন করব। আমরা ৩ মাসে এই করব, ৬ মাসে এই করব, বছরে এই করব, ২ বছরে এই করব, ৫ বছরে এইটা আমরা সারব।' জাতির তখন মেন্টালি, সাইকোলজিক্যালি প্রিপেয়ার্ড হবে। তখন ট্রমাটিক হবে না।

তিনি গ্রামের মানুষ সর্ম্পকে বলেন, গ্রামের লোকগুলা বড় অতিষ্ঠ। তারা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কোথাও কোথাও কারেন্ট পায় না। আমাদের যে শর্টেজ, এইটার সাথে ওই হিসাব মিলে না। আমরা এই লং মার্চের সময়ও বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করেছি, বিভিন্ন বাজারে আমরা থেমেছি। প্রথমে স্টার্টিংয়ে আমরা বিদ্যুৎ দেখেছি, এরপরে সীতাকুণ্ড পৌঁছার পরে আবার বিদ্যুতের সাথে আমাদের মোলাকাত হয়েছে! মাঝখানে হয় নাই। এটা সারা দেশের চিত্র, এটা শুধু ওই রাস্তার চিত্র না। এটাকে মেনে নিলেই ভালো—হ্যাঁ, বিদ্যুৎ দেখা যায়, জ্বললে দেখা যায়, ফ্যান ঘোরে ওইটাও দেখা যায়, এটা আড়াল থাকে না। তো স্বাভাবিকভাবেই আমরা প্রথমে সাহস করে আমাদের সত্যটাই মেনে নেওয়া উচিত যে এটি আমাদের সমস্যা। কেন এই সমস্যা, এটাও জাতি জানে। আরো ক্লিয়ার করে বলা যায়, অসুবিধা নাই। এরপরে আমাদের প্ল্যানটা আমরা জাতিকে দিই। আমরা আবারও বলব—যদি সরকার আমাদের সহযোগিতা চান, তাহলে আমরা আমাদের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমকে সরকারের সাথে আমরা যুক্ত করে দিতে পারি। একসাথে তারা কাজ করবে, দেশের জন্য কাজ করবেন, মানুষের জন্য কাজ করবেন। এখানে ক্রেডিট এবং ডিসক্রেডিটের কোনো ব্যাপার নাই। যদি কোনো ক্রেডিট নিতে হয়, পুরাটা সরকার নিয়ে নিন—কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু আমরা চাই যে সমস্যার সমাধান হোক। আমরা কোনো ক্রেডিট ক্লেমার হতে চাই না, আমরা এটার সমাধান চাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে আমার সহকর্মী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন যে এর জন্য একটা ইফেক্টিভ সেল করা দরকার। টাস্কফোর্স বলেন, সেল বলেন, স্পেশাল কমিটি বলেন—হোয়াটএভার মে বি, এটা কোনো শর্ট টার্মের জন্য হবে না, দরকার হয় এটা পারসিস্ট করবে। সেই প্রোভিশন ক্রিয়েট করে যদি আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল মিলে সামনে এগোতে পারি, আমরা বিশ্বাস করি দেশের মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। এবং মানুষ সরকারকে, বিরোধী দলকে এইটুকু অন্তত বলবে যে না, তারা সিনসিয়ারলি তাদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। সরকার নিতে চাইলে আমাদের এই অফার সরকারের প্রতি থাকল। সরকার নিতে না চাইলে একালেও যদি সমাধান করেন, আমরা সমাধান চাই। সমাধানের জন্য আমরা অংশীদার হতে পারলে আমরাই খুশি হব, কৃতজ্ঞ হব—জাতির জন্য ভালো কিছুতে অংশ নিতে পারলাম। যদি অংশীদার নাও হতে পারি, তবুও চাই যে এই যন্ত্রণা থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়া হোক, সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক এবং জাতির সামনে প্রাগমেটিক প্ল্যান সাবমিট করা হোক, আরবিট্রেটর প্ল্যান না; যে প্ল্যানের বাস্তবায়ন জনগণ দেখবে, সুবিধা ভোগ করবে।

এর আগে প্রস্তাব উত্থাপনের সময় বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমার জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে নোটিশ দিয়ে দিয়েছি ৬৮ বিধিতে। এ বিষয়টি হচ্ছে তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে যেটা জানতে পেরেছি যে, গত ৩ বছরে ৪০০ এর অধিক কারখানা এই সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। তার মানে এই কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার অর্থ হচ্ছে যে ৪০০ উদ্যোক্তা বা তাদের সাথে যদি গ্রুপ থাকে, সেই সমস্ত উদ্যোক্তার সমষ্টি তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি দেখি তাহলে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন, চাহিদা এবং সরবরাহ— এই তিনটার মধ্যে আমরা ক্লিয়ার দেখতে পাচ্ছি, দেশে বিদ্যমান ৪টা উৎস থেকে, যেখান থেকেই বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করে থাকি, সেই উৎসগুলোতে ক্যাাপাসিটি আছে ২৯,৫০০ মেগাওয়াট প্রোডাকশন প্রতিদিন। কিন্তু আমরা গত আগস্ট মাসের ডাটা যদি দেখি, তাহলে দেখব যে আমাদের নিড হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭,০০০। ক্যাপাসিটি আছে ২৯,৫০০। সেই সময়েও প্রতিদিন গড়ে আমাদের ঘাটতি ছিল ২,০০০ মেগাওয়াট। তাহলে আমাদের এই যে ক্যাপাসিটি আছে, আমাদের নিড তার চাইতে কম, তারপরে কেন ঘাটতি? এটি একটি বিশাল প্রশ্ন। এর উত্তর হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যারা, তারা উৎপাদন করতে পারছেন না, সরবরাহ করতে পারছেন না। তারা কেন পারছেন না? সেই প্রশ্নের উত্তরে যদি আমরা যাই, আমরা দেখব যে সরকার এই ক্ষেত্রে সরকারের যে দেনা, এইটা এসে দাঁড়িয়েছে ৫৯,০০০ কোটি টাকা। এইটা পাবে যারা প্রডিউসার বা ম্যানুফ্যাকচারার, কিন্তু তাদের হাতে সেই টাকা তুলে দেওয়া যাচ্ছে না। তো তারা যদি টাকাই না পায়, তাহলে তারা উৎপাদনের চাকা চালু রাখবে কীভাবে? কোত্থেকে আসবে তাদের অর্থের যোগান? স্বাভাবিক কারণেই এই জায়গায় একটা বিরাট প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে। এই ৫৯,০০০ কোটি টাকা এই ৬ মাসে না, এইটা অতীত থেকে তার রেশ যে চলে আসছে, সেইটার কিউমুলেটিভ ইফেক্ট এসে সেখানে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এনার্জি প্রোডাকশনে মূল সোর্সটা হচ্ছে গ্যাস, তারপরে আছে তেল, এরপরে আছে রিনিউয়েবল এনার্জি। আর একটা অংশ, ৭টা প্লান্ট আমাদের আছে কয়লা-নির্ভর জ্বালানি। তো কয়লানির্ভর এই ৭টা প্রোডাকশন হাউসের মধ্যে বড়পুকুরিয়ায় যেটা আছে, সেখানে তারা নিজেরাই তাদের উত্তোলিত কয়লা থেকে এই পাওয়ার জেনারেট করে থাকেন। তাদের যা নিড, তার চাইতে বেশি সেখানে উত্তোলন। আমরা দেখেছি বিগত সরকারের সময় এখান থেকে হাজার হাজার টন গায়েব হয়ে গেছে, এটার কোনো উত্তর পাওয়া যায় নাই, কোথায় গেল এই কয়লা? যেহেতু তাদের এখানে সারপ্লাস আছে, এইটা দিয়ে বাকি ৬টার মধ্যে ব্যাকআপ দেওয়া যায় কিনা, এই বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ বা এর ব্যাপারে কোনো ফিজিবিলিটি বা কেমিক্যাল স্টাডি হয়েছে কিনা, এইটা আমাদের কাছে স্পষ্ট না।

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি গ্যাসের ক্ষেত্রে যাই, তাহলে দেখব যে গ্যাস মূলত দুইটা উৎস থেকে আমরা পেয়ে থাকি। একটা আমাদের ডোমেস্টিক, আরেকটা হচ্ছে ইম্পোর্ট করা। একসময় ইম্পোর্ট করা এই গ্যাসের প্রপোশনটা ছিল ২০%। ৮০% ছিল আমাদের নিজস্ব। কিন্তু এটা এখন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো যে আমাদের কূপগুলো এখন আগের মতো সেই প্রেশারে গ্যাস আমাদেরকে সরবরাহ করতে পারছে না। আবার নতুন কোনো কূপ সেখানে গ্যাস আহরণের জন্য, উত্তোলনের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া দরকার, সেটাও দীর্ঘদিন নেওয়া হয়নি। আমাদের যাবতীয় গ্যাস উত্তোলনের আয়োজনটা হচ্ছে অনশোরে, আমাদের ল্যান্ডে। অফশোরে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো স্টেপ নিতে পারিনি। অথচ পাশের দেশগুলো ঠিকই এই একই সমুদ্র থেকে তারা কিন্তু গ্যাস উত্তোলন করছে, নিচ্ছে, তারা বেনিফিটেড হচ্ছে। আমরা কেন থমকে আছি? কোথায় আমাদের হাত-পা বাঁধা? যদি হাত-পা বাঁধা থাকে, এটা ছুটাতে হবে। এই খনিজ সম্পদ আল্লাহর দান, এটা আমাদের অধিকার এবং এটা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু অফশোরের কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে দৃশ্যমান নয়।

মিটার ভাড়া মওকুফে লাগবে ২৯ হাজার কোটি টাকা : সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের মোট ২৯ হাজার কোটি টাকার বিশাল তহবিলের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, সরকার আপাতত পুরো টাকা মওকুফ করতে না পারলেও গ্রাহকদের জন্য বিকল্প পথ খোলা রেখেছে। কোনো গ্রাহক যদি নিজ খরচে মিটার কিনে নেন, তবে তাকে আর কোনো মাসিক ভাড়া দিতে হবে না। এছাড়া ভুতুড়ে বিল ও বিলিং সংক্রান্ত যাবতীয় অনিয়ম চিরতরে বন্ধ করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতাকে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারের কাছে সুস্পষ্ট স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বস্ত করে বলেছেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান, তখন সরকারের পুরো দল একযোগে বলছে উই হ্যাভ এ প্ল্যান। এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া ৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এ সপ্তাহ থেকেই কোনো প্রকার ক্যাপাসিটি চার্জ না দিয়েই সেখান থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার এরইমধ্যে এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটে বন্ধ থাকা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহেই চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। সমুদ্র ও ভূ-ভাগে অনুসন্ধান জোরদার করতে গত মে মাসে শুরু হওয়া অফশোর বিডিং রাউন্ডের পাশাপাশি ১০৬টি কূপ খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ৩০টির কাজ এখন সরাসরি মাঠে চলছে। গ্যাস সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে এ বছরের মধ্যেই দুটি নতুন এফএসআরইউ চুক্তির পাশাপাশি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

জ্বালানি তেলের আধুনিকায়ন ও শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের ক্ষমতা বর্তমানের ১৫ লাখ টন থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে শিল্পোদ্যোক্তা ও আমদানিকারকদের মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে রুফটপ সোলার প্যানেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ৬ মাসের জন্য অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি। উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুবিধা চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানি খাত সম্পূর্ণরূপে সংকটমুক্ত হবে বলে সংসদে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি সংকট বিগত সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির ফসল - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের অনুগত টাইকুনদের লালন-পালন করতে গিয়ে বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল এবং কোনো প্রকার দেশীয় অনুসন্ধানে নজর দেয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দৃশ্যমান, তা পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যব¯’াপনারই ফল।

সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পরামর্শমূলক বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়গুলোর নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক পরিসরে গালফ ওয়ারের মতো সংকট দেখা দেয়, যার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। তা সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে বোরো মৌসুমে সেচ কাজ নিরবচ্ছিছন্ন রাখতে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের এক পয়সাও দাম বাড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতেই তেলের দাম সহনীয় মাত্রায় পুর্ননিধারণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর ওপর বাড়তি কোনো কর না চাপিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের এলএনজি ঘাটতি মেটাতে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ ¯’াপন করা সময়সাপেক্ষ বিষয় হলেও বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপে বিশ্বাসী। মাতাবাড়িতে চীন সরকারের সাথে 'জি টু জি' চুক্তির অধীনে তৃতীয় এফএসআরইউ ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড বেজড বা ভূমি নির্ভর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো থেকে নিরব”িছন্নভাবে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় শত কিলোমিটারের অ্যাডভান্সড পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের বিষয় তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশীয় কয়লার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বড়পুকুরিয়ার দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের একটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ¯’াপন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যমান চলমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চলছে। বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বন্ধের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২০২১ সালের আগের চুক্তির আওতায় পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। যদি সঞ্চালন ও গ্রিড লাইনের অভাব তৈরি হয়, তবে সরকার নিজস্ব জিওবি তহবিল থেকে অর্থায়ন করে সেই গ্রিড লাইন বানিয়ে দেবে।

জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও এলপিজি ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অনশোর এবং অফশোর কোনো গ্যাস কূপ অনুসন্ধান করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই অফশোর ও অনশোর সব জায়গায় কূপ খনন এবং অনুসন্ধান জোরদার করেছে। ইতোমধ্যেই ভোলাতে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ সচল করা হয়েছে এবং সেখানে প্রাপ্ত গ্যাসকে কেন্দ্র করে ফার্টিলাইজার ইন্ডাস্ট্রি ও নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। এর পাশাপাশি দেশে এলপিজির চাহিদা মেটাতে মাতারবাড়িতে একটি সুবিশাল এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও যাতে নিরব”িছন্নভাবে গ্যাস খালাস করা যায়, সেজন্য একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাসমান সিবিএস প্রযুক্তির টার্মিনাল ¯’াপন নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সময়সীমার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি সরকার যখন ভঙ্গুর আর্থিক ও জ্বালানি ব্যব¯’া উত্তরাধিকারসূত্রে পায়, তখন সব ব্যব¯’া রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের যে মহাপরিকল্পনা বা 'আই হ্যাভ প্ল্যান' নীতি গ্রহণ করেছেন, তা ইতোমধ্যে কার্যকর হতে শুরু করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কয়লা, বাতাস, সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি দুর্যোগ সহনশীল ও টেকসই জ্বালানি খাত গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং কোনো শিল্প কারখানা বা বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত জ্বালানি সংকটের মুখে পড়বে না। সরকার প্রতিটি সমস্যার টেকসই সমাধানে কাজ করে যা”েছ এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই সংকটের উত্তরণ সম্ভব হবে।

শিল্প বাঁচাতে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনার ‘ওপেন অ্যাক্সেসের’ প্রস্তাব

সাধারণ গ্রাহকদের ওপর থেকে অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়ার নামে প্রতি মাসে শত শত কোটি টাকা কেটে নেওয়াকে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন।

সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সংকটকাল কাটিয়ে উঠতে তিনি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা পেশ করেন। এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ‘জ্বালানি জরুরি সেল’ গঠন, এলএনজি খাতের দুর্নীতির তদন্ত এবং শিল্পকারখানাগুলোকে সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ‘ওপেন অ্যাক্সেস’ সুবিধা দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে জনগণের অধিকার হিসেবে বর্ণনা করে জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান সার্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের চরম বাস্তবতা তুলে ধরে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়ার অধিকার জনতার, এটা কারো দয়া বা দান নয়। দেশের মানুষ নিয়মিত বিল ও ট্যাক্স দেয়, কৃষকের ঘাম বেচা টাকা, শ্রমিকের কষ্টার্জিত আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে এই খাতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হয়। ফলে এই বরাদ্দের সঠিক হিসাব ও সুশাসন নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলেও, বিরোধী দল কেবল জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এবং একটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরতেই তথ্য-উপাত্তসহ এই সংকট সমাধানের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা সংসদে উপস্থাপন করছে বলে জানান তিনি।

সংসদে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান অচলাবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যেখানে দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদা মাত্র ১৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। তা সত্ত্বেও সারা দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং সহ্য করতে হচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ আর্থিক ও ব্যবস্থাপনার সংকট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছে সরকারের পাওনা বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বকেয়া না পাওয়ায় উৎপাদকেরা কয়লা, তেল বা প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। অথচ অন্যদিকে অলস বসিয়ে রেখে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া মিটিয়ে যেতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের বিষদ বিবরণ দিতে গিয়ে এই সংসদ সদস্য জানান, বিগত ১৭ বছরে অনশোর কিংবা অফশোর কোনো গ্যাস কূপের প্রয়োজনীয় খনন বা পুনঃখনন তথা ওয়ার্কওভার না করায় দেশীয় গ্যাস উত্তোলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে প্রতিদিন ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে দেশে দৈনিক প্রায় ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনের অভাবে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এই ঘাটতি মেটাতে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির পেছনেই গত অর্থবছরে ৫৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২১শে জুলাই একটি এফএসআরইউ-তে অগ্নিকাণ্ডের পর তৈরি হওয়া গ্যাস সংকট এখনো বহাল রয়েছে। সেই অগ্নিকাণ্ড কোনো নাশকতার অংশ কি না, কিংবা এই বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, তার সঠিক তথ্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

জ্বালানি খাতে নিজস্ব কয়লার ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পায়রা, রামপাল, বাঁশখালী ও মাতারবাড়ীর মতো বড় কেন্দ্রগুলো মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভৌত সক্ষমতা রয়েছে এবং সঞ্চালন লাইনও প্রস্তুত আছে। কেবল নিয়মিত কয়লা সরবরাহ ও এলসি অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকেই দ্রুত সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। দেশীয় কয়লার গুণগত মান বা হিট বেশি হওয়ার দোহাই দিয়ে তা ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হচ্ছে এবং তা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে অপর্যাপ্ত কয়লা আনা হচ্ছে। দেশীয় কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

তেল খাতের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল আমদানি ও শোধন নিশ্চিত করা গেলে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকা এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুড়িং সচল রাখলে আরও ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব, কিন্তু সঠিক তদারকির অভাবে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রায়ই কাঁচামালের অভাবে বন্ধ থাকে।

জনদুর্ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাজিবুর রহমান মোমেন বিদ্যুৎ খাতের ভূতুড়ে বিল, অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়াকে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা ডিমান্ড চার্জ এবং ৮০ থেকে ১৬০ কোটি টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে কেটে নেওয়া হচ্ছে, যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তিনি অবিলম্বে সরকারের কাছে এই প্রথা বন্ধ করার দাবি জানান।

এছাড়া, নবায়নযোগ্য ও সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে ট্যারিফ নির্ধারণে সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদনে লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং মাত্র ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ক্রয়ের গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। ফলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন না, যা সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা।

সংকট উত্তরণে নাজিবুর রহমান মোমেন ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি, তিন বছরের মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি একগুচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। স্বল্পমেয়াদে দুটি এফএসআরইউ পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রাখা, জরুরি এলএনজি ক্রয়, এবং বিদ্যুৎ, সার ও রফতানিমুখী শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের তাগিদ দেন। মধ্যমেয়াদে ভোলা, জামালপুর, জকিগঞ্জ ও নোয়াখালীর গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা, নতুন কূপ খনন কর্মসূচি জোরদার করা এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোলার গ্যাস যদি এলএনজিতে রূপান্তর করে সরবরাহ করা হয় তবে এর ব্যয় ১০ থেকে ২০ গুণ বেড়ে যাবে, যা পরিহার করা দরকার। বিদ্যুৎ সংকট কাটাটে তিনি 'ওপেন অ্যাক্সেস' পদ্ধতির প্রস্তাব করে বলেন, শিল্পকারখানাগুলোকে সরাসরি উৎপাদকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ দিলে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা তৈরি হবে, উৎপাদন সচল থাকবে এবং শিল্পখাত বাঁচবে।

বক্তব্যের শেষাংশে সংসদ সদস্য বলেন, হাইকোর্ট ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিশেষ আইনকে অবৈধ ঘোষণা করা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটি আন্তর্জাতিক সালিশে নেওয়া বা যাচাই করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখায়নি। তিনি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি পাওয়ারফুল ‘জ্বালানি জরুরি সেল’ গঠন, বকেয়া পরিশোধে স্বচ্ছ রোডম্যাপ তৈরি করা, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বার্ক) শক্তিশালী করা এবং এলএনজি ও জ্বালানি খাতের সবরকম কেনাকাটায় জড়িতদের দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে অন্তত তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির নিজস্ব মজুত গড়ে তুলে বর্তমান বিদ্যমান পরিকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।