রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি এবং হুইপবৃন্দ আলহাজ্ব মো. জি. কে. গউছ এমপি, রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি এবং এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এমপি অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান এবং সংসদ-সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়াও বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।
চিফ হুইপ বলেন, ভোটটা হবে সংসদের মধ্যে এবং বুথটা থাকবে- বুথ বলতে এটা বক্স থাকবে সংসদের মধ্যে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভক্তি অনুযায়ী, তাদের আসন নম্বর অনুযায়ী, জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগে ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটা ভোট বাকি আছে, তার জন্য আমরা ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। ৫টার পরে আমরা ফলাফল ঘোষণা করব।
তিনি বলেন, (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা এবং (ভারপ্রাপ্ত) স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষের পর গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে একদিনের বৈঠক ডাকবেন সিইসি, উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে আমরা সবাই জানতে পারব। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই আমরা সবাই জানব।
নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং আমরা দেশবাসীকে রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানান দিতে চাই। আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হত। নাহিদ বলেন, তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এটাকে বিনা কনটেস্টে এইজন্য দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ব্যালট পেপারে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, নাম ও বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। ব্যালটের নির্ধারিত অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যাকে ভোট দিতে চান, তার নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোট দেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন। ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে যাতে তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে।
ইসি সচিব আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। মোট ব্যালটের সংখ্যা ৩৪৯টি। গণনা শেষে কতটি ব্যালট বৈধ এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্ধারণ করা হবে। গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল সংসদে নির্বাচন পরিচালনাকারী নির্বাচন কর্মকর্তা ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এসে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা উপস্থিত থাকতে চাইলে তাদের নামও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৩ ধারা অনুযায়ী উক্ত নির্বাচন পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন : আগামী ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।