• বন্ধ তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন। অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভিসার একটি প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার বাংলাদেশে স্থাপনের জন্য ভিসার প্রতিনিধির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কার্পিন গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান।

তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ সময়ে স্টিফেন কার্পিন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ভিসার আগ্রহের কথা জানান।

তিনি বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। বৈঠকে কার্পিন বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী কার্ড ব্যবহারের আওতায় নেই, তাদের কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে ভিসার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত করার বিষয়েও ভিসা কাজ করতে চায় বলে জানান স্টিফেন কার্পিন। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের লেনদেন সহজ করতে মেট্রোরেল, টোল প্লাজা ও এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসেবামূলক ব্যবস্থায় ভিসা কার্ড ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বিকাশে অবদান রাখতে ভিসা আগ্রহী বলেও জানান স্টিফেন কার্পিন।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় নিরাপদ ও সহজে দেশে আনার জন্য কার্যকর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং ভিসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমনন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা পোস্ট করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

বন্ধ তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিল তিনটি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। এতে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসি’র উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।