- ঢাকা ও দিল্লীর উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা ফিরিয়ে আনতে অবিরাম কাজ করছেন-দীনেশ ত্রিবেদী
- প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও গত ৫ আগস্টের পর উদ্ভূত নানা পরিস্থিতিতে ঢাকা এবং নয়াদিল্লীর কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছতা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে নয়াদিল্লীতে পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিতর্কিত বক্তব্য এবং সেটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জনমনে তৈরি ক্ষোভের প্রভাব পড়েছিল দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতিতে। এর সরাসরি প্রভাবে পিছিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর। তবে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নতুন বার্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। সব জটিলতা কাটিয়ে বরফ গলতে শুরু করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করছে যে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন কমিয়ে নতুন করে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে আগামী সেপ্টেম্বরেই নয়াদিল্লী সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অনেক বিষয়ের সমাধানের জন্য এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লীর পক্ষ থেকে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য নেই। যে সফরে দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয়ের সুরাহা হবে না সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর বাংলাদেশের জন্য কি ফল বয়ে আনবে তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। তবে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে হোক কিংবা স্বতন্ত্র দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে সম্ভাব্য এই সফরটি ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কে একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন দু’দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। ঢাকা-দিল্লীর সুবিধামত সময়ে এ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করাই তার অন্যতম দায়িত্ব। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন এবং তার বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের অনুভূতির ওপর কতা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, তা ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা আগে থেকে সঠিকভাবে অনুমান করতে পারেন নি। এর প্রভাবে আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লী সফরটি পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকার অবস্থান কঠোর করে এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও আলোচিত শরীফ ওসমান হাদী হত্যার অভিযুক্তদের দ্রুত হস্তান্তরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে সফর থেকে পিছিয়ে আসে। বাংলাদেশের কোনো কোনো রাজনৈতিকগোষ্ঠী সরকার ও ভারতের মধ্যকার এই তিক্ততাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করলেও, নতুন বিএনপি সরকার কৌশলী অবস্থান নেয়। ভারতকে নিজেদের উদ্বেগের বার্তাটি আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গেই স্পষ্ট করে ঢাকা। শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগের পথ আবার উন্মুক্ত করেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক বার্তার আদান-প্রদান নতুন গতি পেয়েছে। দুই দেশই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সফরটি আয়োজনে দুই পক্ষই নীতিগতভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বর্তমানে আলোচনা চলছে এই সফরটি আন্তর্জাতিক ‘ব্রিকস (ইজওঈঝ)’ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে হবে, নাকি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। তবে সফরের মোড়ক যাই হোক না কেন, দুই দেশের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে যে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। এই জটিল পরিস্থিতিতে ঢাকা ও দিল্লীর উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা ফিরিয়ে আনতে অবিরাম কাজ করছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার ইতিবাচক ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপে শিগগিরই ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কে একটি কার্যকর ‘ত্রিবেদী চমক’ দেখা যেতে পারে। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অর্থনীতির চাকা স্তব্ধ হওয়া উচিত নয়; এমন কঠোর বাস্তববাদী বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার আহ্বান জানান।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “ইন্টার-ডিপেনডেন্সি বা পারস্পরিক নির্ভরতাই স্থায়ী সমাধানের পথ। এটা আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকবে, কিন্তু অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। অর্থনীতি যখন আগে চলে যায়, তখন রাজনীতি তার পেছনে পেছনে যায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই প্রাণবন্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কূটনৈতিক সম্পর্কে ‘ছোট বা বড়’ বলে কিছু নেই; দুই দেশই নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সমতার ভিত্তিতে এগোবে।
নয়াদিল্লীতে ‘ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরাম’-এ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “যেকোনো সম্পর্ক নিয়ে কাজ করতে হলে তাকে পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। উভয়পক্ষকেই এটা করতে হবে। একে অপরের স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সম্মান করা একান্ত জরুরি।” ইতোমধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ কিছু জটিল বিষয়; যেমন ফারাক্কা ব্যারাজ ও বছরের শেষে নবায়নযোগ্য ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে বিহার রাজ্য সরকারের উদ্বেগের বিষয়টিও কেন্দ্রীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানান, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে ফারাক্কা ইস্যুতে বিহারের স্বার্থ রক্ষা করেই বাংলাদেশ চুক্তি ও পানির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা ভারতের নিজস্ব প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক ইতিবাচক মনোভাব নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সরকারের কৌশলগত কূটনৈতিক অবস্থানের চিত্র স্পষ্ট করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের অক্ষের ওপর আটকে থাকবে না; বরং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি পরিচালনা করাই হবে আসল লক্ষ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হব, আমরা একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তা করতে হবে। আমাদের কোনো তাড়াহুড়া নেই, এখানে আলোচনার বিষয় আছে, প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয় আছে। শীর্ষ সফর কোনো খেলার বিষয় নয় যে হুট করে হয়ে যাবে। এর পেছনে সঠিক ভিত্তি তৈরি করতে হয়।” তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের একমুখী পররাষ্ট্রনীতির গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে এখন বাংলাদেশকে চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সমানতালে নতুন ও মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন সরকারের এই বহুমুখী উচ্চপর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত পজিটিভ বা ইতিবাচক দিক বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক রাধা দত্ত ভারতীয় দৃষ্টিকোণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, “শেখ হাসিনা ও অন্যান্য নেতাদের প্রত্যর্পণ ইস্যুতে এবং শেখ হাসিনাকে ভারতীয় মিডিয়াতে ভার্চুয়ালি পলিটিক্যাল স্পেস দেওয়ার বিষয়টি ঢাকাকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও সংবেদনশীল করেছে। ভারতীয় পক্ষ বিষয়টিকে একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন বলে ব্যাখ্যা করলেও, তা ঢাকার তীব্র অসন্তোষ কমাতে সাহায্য করে নি। তবে উভয় দেশের পারস্পরিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কারণেই সম্পর্কের এই অচলাবস্থা দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে না।”
সাবেক সিনিয়র কূটনৈতিক শাকিব আলী বলেন, “আমি মনে করি ভারতের কাছে বাংলাদেশের বার্তাটি খুব স্পষ্ট। বাংলাদেশের জনমনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান যেভাবে ভারত বিরোধিতা উসকে উঠেছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আশ্রয় এবং দিল্লীতে বসে বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া, পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী দ্বারা সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে পুশইনের মতো কার্যক্রম চালু রাখা সেই ভারতবিরোধী মনোভাব বরং শক্ত করেছে। ফলে বাংলাদেশের জনগণের কাছে কীভাবে সদিচ্ছার প্রমাণ দেবে তা ভারতকে পুনরায় ভাবতে হবে। অপরদিকে কঠোর অবস্থানে গিয়ে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে আপাতদৃষ্টিতে কিছু না পেলেও ভারতকে বাংলাদেশের ইস্যুগুলোর আর্জেন্সি ও গুরুত্ব বোঝাতে পারছে।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের একে অপরের প্রয়োজন। বিরোধের প্রধান বিষয়গুলো হলো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সেইসঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদেরও। শেখ হাসিনার গত ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল মিডিয়া আলাপচারিতার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, যা ঢাকাকে ‘ক্ষুব্ধ’ করেছিল। অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সত্ত্বেও এটি হয়েছিল। এরপর ঢাকা হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং যুবনেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। অন্যদিকে নয়াদিল্লী দাবি করে, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংস্থা দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল এবং ভারত সরকার এটি সমর্থন করেনি বা এতে অংশ নেয়নি। এই ধরনের কূটনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে চলার কৌশল বাংলাদেশে তেমন কোনো সাড়া জাগায়নি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাবেক আমলের পরোক্ষ ও একপক্ষীয় পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক রক্ষা করাই এখন সময়ের দাবি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া দু’দেশের কারও জন্যই সম্ভব নয়। ফলে জাতীয় স্বার্থকে শীর্ষে রেখে, নিজেদের উদ্বেগগুলো কাটিয়ে নয়াদিল্লীর সাথে একটি নতুন ‘সম মর্যাদার অংশীদারিত্বে’ প্রবেশ করাই বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক লক্ষ্য হতে যাচ্ছে।