- আট মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬২ হাজার
- সংস্কারে রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না সরকার
- মূল্যস্ফীতি কমলেও জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ
নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর-এমন মূল্যায়ন করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদি একটি ‘কোর বাজেট’ এবং সমন্বিত ও সময়বদ্ধ সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ জরুরি। গতকাল সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত মিডিয়া ডায়ালগে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ‘সরকারের ছয় মাস: কার্যক্রমের ওপর একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন।
সিপিডি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে মোট ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এগুলোকে শাসন ও বিচার, সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, জ্বালানি ও পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ নয়টি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। সিপিডির সামগ্রিক মূল্যায়নে সরকারের প্রথম ছয় মাসের চিত্র মিশ্র হলেও নেতিবাচক প্রবণতার আধিক্য রয়েছে। এসব নেতিবাচক প্রবণতার বড় অংশই কাঠামোগত ও দীর্ঘস্থায়ী। ফলে মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ও সুদের হার স্থিতিশীল করার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে দৃশ্যমান উন্নতি না হলে প্রকৃত অর্থে পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না। সিপিডির মতে, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি ইতোমধ্যে দুর্বল অবস্থায় ছিল। দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা ও বিনিয়োগের স্থবিরতা ছিল উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বড় সমস্যা। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ যুক্ত হয়েছে। সিপিডির গবেষণায় দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক। একই সময়ে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে শূন্যে নেমে এসেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। বিনিয়োগ, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও বিদেশি বিনিয়োগে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। গ্যাস–সংকটও শিল্প উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিপিডির স্কোরকার্ডে মূল্যস্ফীতির কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে জুলাইয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো উচ্চ থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি আসেনি। একই সময়ে মজুরি সূচক ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উঠলেও প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচকই রয়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমার পরও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পুরোপুরি কাটেনি। সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে রাজস্ব আহরণ। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এনবিআর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৪ শতাংশ; মার্চ-মে সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ১ শতাংশে। একই সময়ে মোট কর রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশে।
সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ঘাটতি হতে পারে। ৬ দশমিক ৯৫ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৩০ থেকে ১ দশমিক ৪০ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে বলে সিপিডি মনে করছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৯-২০ শতাংশ কম রাজস্ব আহরণ হতে পারে। সরকারের রাজস্ব দুর্বলতার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। সিপিডির হিসাবে, বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ব্যাংকঋণের অংশ ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়ে ৪৮ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে বেড়ে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে তারল্যের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ব্যাংকিং খাতের তারল্য ছিল ৭৮ হাজার ১৬১ কোটি টাকা; ২০২৬ সালের মে মাসে তা বেড়ে ১ লাখ ৭৭৮ কোটি টাকা হয়েছে। সিপিডির ব্যাখ্যায়, এর একটি কারণ হলো বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকা। ব্যাংকিং খাত নিয়ে সিপিডি একই সঙ্গে সংস্কারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেছে। পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন এবং ব্যাংক রেজুল্যুশন আইনের বাস্তবায়নকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং ব্যাংক খাতের নীতিগত স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সিপিডি। বিনিয়োগে গতি নেই বেসরকারি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান সূচক বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ফেব্রুয়ারিতে ৬ শতাংশ থেকে জুনে নেমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সিপিডির মতে, এটি বেসরকারি বিনিয়োগে তাৎক্ষণিক গতি আসার সম্ভাবনা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগও আশানুরূপ বাড়েনি। ২০২৫ সালের মার্চ-জুন সময়ে নিট এফডিআই ছিল ৬৬২ মিলিয়ন ডলার; ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। শিল্প খাতের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সাধারণ শিল্প উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থাকলেও মার্চ-এপ্রিলে তা শূন্য শতাংশে নেমে এসেছে। উৎপাদন খাতেও প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমেছে।
সিপিডির হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর তিনটি বড় শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে সরাসরি ৬১ হাজার ৮৮১ জনের কর্মসংস্থান হারানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রপ্তানি খাতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে মার্চ-জুলাই সময়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু আমদানি ব্যয় আরও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়ে আমদানি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি, খাদ্য ও সারের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ফলে মার্চ-জুন সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে চলতি হিসাবে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত পরিবর্তিত হয়ে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সরকারের জন্য অন্যতম স্বস্তির জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; ১২ আগস্ট তা বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে রিজার্ভ বাড়লেও একই সময়ে টাকার বিনিময় হার ১২২ দশমিক ৩ টাকা থেকে ১২৩ দশমিক ২ টাকায় নেমেছে, অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে টাকা কিছুটা দুর্বল হয়েছে। রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে সিপিডির স্কোরকার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ২১ দশমিক ৪ শতাংশ থাকলেও মার্চ-জুলাই সময়ে তা ১১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এদিকে গড়ে মাসিক বিদেশে কর্মসংস্থানও ৯৫ হাজার ৫২১ জন থেকে কমে ৫১ হাজার ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি খাতকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা, এলএনজি কার্গো সংগ্রহে সমস্যা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে টেক্সটাইল, স্টিল, কাগজ, পার্টিকেলবোর্ড ও সিরামিকসহ গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিল্পে গ্যাসের ব্যবহারও ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়ে ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ঘনমিটার থেকে ২০২৬ সালের একই সময়ে কমে ১ হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনমিটারে দাঁড়িয়েছে। সিপিডি বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে। তৃতীয় প্রান্তিক ছিল ২০২৬ অর্থবছরের সবচেয়ে দুর্বল ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধি। সিপিডির মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাত ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে চলে যায় এবং পরবর্তী সময়ে শিল্পের ইনপুট ও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির সূচক আরও দুর্বল হয়েছে। সরকারের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপও আছে তবে পুরো প্রতিবেদনে সরকারকে নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। সিপিডি কয়েকটি পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন, সরকারি গাড়ি কেনা স্থগিত, মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে আয়োজন, এআইভিত্তিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের উদ্যোগ এবং ই-বেইল ও ই-কজলিস্টের মতো বিচারিক ডিজিটাল ব্যবস্থা।
শিল্প ও বাণিজ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ), বাংলাবিজের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও রপ্তানি সেবা সমন্বয় এবং বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠনের পদক্ষেপও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিডির অন্যতম প্রধান সুপারিশ হলো ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত একটি ‘কোর বাজেট’ তৈরি করা। বাস্তবসম্মত ও হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এই বাজেট তৈরি করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতার সঙ্গে লক্ষ্যগুলো সামঞ্জস্য করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রাজস্ব ঘাটতির কারণে ব্যয় সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে উন্নয়ন বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সিপিডি। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দকে সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজের তাগিদ ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি, রাজস্ব প্রশাসন, এনবিআরের বিভাজন, সরকারি ব্যয়, এডিপি পুনর্বিন্যাস, লজিস্টিকস, ডিজিটালাইজেশন এবং বেতন কমিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি। জ্বালানি খাতে দেশীয় অনুসন্ধান দ্রুত করা, কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা, উৎস বহুমুখীকরণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। সেপ্টেম্বরকে গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচনা করে অর্থমন্ত্রীকে সংসদে ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার, বেতন স্কেল ও বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি। এলডিসি উত্তরণ, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ আলোচনা, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যের ঘাটতি এবং জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের অনিশ্চয়তাকে সামনে থাকা বড় চাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। ব্যাংকিং খাতের জন্যও বড় ধরনের পুনঃমূলধনীকরণের প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেটে ৪০ হাজার কোটি টাকা পুনঃমূলধনীকরণের কথা থাকলেও প্রয়োজনীয়তা মোট ২ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত যেতে পারে বলে সিপিডির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।