ঢাকা মহানগরীকে ইসলামী আন্দোলনের দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইউনিট দায়িত্বশীলসহ সকল স্তরের জনশক্তিকে ময়দানে আপসহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গতকাল রোববার রাজধানীর বারিধারাস্থ মহানগরী মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের গুলশান-পূর্ব থানা আয়োজিত ‘ইউনিট প্রতিনিধি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
থানা আমীর মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ইউনিটগুলো সংগঠনের প্রারম্ভিক ভিত্তি। আর ইউনিট প্রতিনিধিরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। তাই আগামী দিনে ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রতিরোধ্য ও দুর্জেয় শক্তিতে পরিণত করতে হলে ময়দানে তাদেরকে যে কোনো ত্যাগ ও কোরবানি করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। নিজেকে দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এজন্য কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্যের বেশি বেশি চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের গণসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মানুষের মুক্তি ও কল্যাণই জামায়াতের রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই প্রত্যেক জনশক্তিকে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সাধ্যমতো সমাধানের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার দেশকে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সকরারি দলের নেতাকর্মীরা বিরোধীদল সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু এসব তাদের জন্যই বুমেরাং হবে। তিনি সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন সরকার জনজীবনে মৌলিক সমস্যা সমাধানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তেল সংকটের কথা উল্লেখ করে মহানগরী উত্তর আমীর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তেল আছে বলে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ লাইন ধরেও মানুষ তেল পাচ্ছে না।
তিনি জুলাই সনদ সম্পর্কে বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে ৭০ ভাগ মানুষ রায় প্রদান করেছে। কিন্তু তা অমান্য করে রীতিমতো গণবিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করা শুভ লক্ষণ নয়; বরং চরম ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি সরকারকে জনগণের সাথে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে গণমানুষের প্রত্যাশার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ সমুচিত জবাব দেবে।