“জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে” মর্মে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যকে অরাজনৈতিক, অসাংবিধানিক, অনাকাক্সিক্ষত এবং অশোভন বলে মন্তব্য করে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন 'ভয়েস অব কাসাস সিটিজেন-ভিসিসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।
গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য যেন পতিত ফ্যাসীবাদী শক্তির কন্ঠেরই প্রতিধ্বনী শোনা যাচ্ছে। তাঁর মত একজন মেধাবী, শিক্ষিত, মার্জিত এবং রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত রাজনৈতিক নেতা কন্ঠ থেকে এই ধরনের বক্তব্য দেশবাসী প্রত্যাশা করতে পারে না।
তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিববের কণ্ঠে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে প্রতিরোধ সম্পর্কে এই ধরনের অরাজনৈতিক বক্তব্য দেশবাসীর মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে 'শাসক দলের কর্তা ব্যক্তিরা কি সকল সময়ই নিজেদের পদপদবী ঠিক রাখতে নিজেদের ঐহিত্য, ইতিহাস, ব্যাক্তিত্ব এভাবে পদদলীত করতে কুন্ঠত হয় না।'
তাহলে আসলে রাজনীতিতে কি পরিবর্তন হলো ? আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি আর ওবায়দুল কাদেরের পরিবর্তে মির্জা ফখরুল, এই পরিবর্তন মাত্র ? মাত্র এতটুকু পরিবর্তনের জন্যই কি আমাদের সন্তানরা রক্ত ঝড়ালো ?
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘দেশের শতশত নেতাদের মধ্যে ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্ঠে ফ্যাসিবাদীদের কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হলে দেশবাসী আতংকিত হয় ? তাঁর শব্দ চয়ন, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও ভাষাজ্ঞান আপনাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। আজ সে অবস্থার অবনতি হলে আগামী প্রজন্ম কাকে অনুস্মরণ করবে ?
তিনি বলেন, জুলাই গনঅভ্যুত্থানে পরে নতুন বাংলাদেশে নির্মূলের রাজনীতি কোন শুভ ফলাফল বয়ে আনবে না। দেশবাসী রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা দেখতে চায়। তারা কোন প্রতিহিংসা বা নির্মূলের রাজনীতি দেখতে চায় না। এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও উস্কানিমূলক ভাষা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আবারো সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।