ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লং মার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১১ দলের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, এনসিপির সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য ওবায়দুর রহমান কোরায়েশী, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় গোড়াই থেকে লং মার্চকে স্বাগত জানানো হবে। গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, সকাল ৯টায় টাঙ্গাইলের আশেকপুর নগর জালফৈ বাইপাসে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বক্তব্য রাখবেন বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান (অব.) কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম এবং খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, পথসভা বলা হলেও সেখানে জনসমাগমে ‘জনসমুদ্র’ তৈরি হবে। তবে রাস্তার পাশে কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে যান চলাচলে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারবে না। সরকার তা না মানলেও জনগণের রায় থেকে তারা সরে যাবেন না। সরকার ভালো কাজ করলে সমর্থন এবং মন্দ কাজ করলে বিরোধিতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

কুরআনের আইন পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, কুরআনের বিধানের বিপরীতে সম্পদ বণ্টন আইন করার কোনো সুযোগ নেই। কুরআনের আইন পরিবর্তন তারা মেনে নেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আমির অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সকল গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানান।

লং মার্চ কর্মসূচি সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেলার সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির একটি ক্রান্তিলগ্নে ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লং মার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচি সফল করতে টাঙ্গাইল জেলার সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। যেকোনো মূল্যে রাজপথের এ কর্মসূচি সফল করে গণমানুষের দাবি আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় ১৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল বাইপাসের পথসভা ও লং মার্চ সফল করতে জেলার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।