পারিবারিক সম্পত্তি আইন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন করা উচিত নয়। এ ধরনের আইন প্রণয়নের আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও দেশের আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের ভোট পাওয়ার জন্য কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না এবং মদিনার ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। এখন কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করা হলে সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে রক্ষা হলো প্রশ্ন রাখেন তিনি। একই সঙ্গে ওই আইনের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, জামায়াতে রুকন হওয়ার আগে একজন মুসলমানের মৌলিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে। ফরজ-ওয়াজিব পালন, হালাল-হারাম বেছে চলা, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং মানুষের হক নষ্ট না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটিতে খুলনা জেলা দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি ও সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি।

সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি।

এতে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক স ম এনামুল হক, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, মোস্তফা আল মুজাহিদ, এডভোকেট লিয়াকত আলী সরদার, আব্দুর রব, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আশরাফুল আলম, কয়রা উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান ও সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল্লাহ আজাদ, পাইকগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান ও সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মুখতার হুসাইন ও সেক্রেটারি আব্দুর রশিদ, ফুলতলা উপজেলা আমীর আব্দুল আলিম মোল্লা ও সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল হাসান, খানজাহান আলী থানা আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ ও সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন, দিঘলিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল হাসান ও সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা আমীর শেখ হাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি নাহিদ হাসান, রূপসা উপজেলা আমীর মাওলানা লবীবুল ইসলাম ও সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ ইমন, বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাই, দাকোপ উপজেলা আমীর মাওলানা আখতারুজ্জামান ও সেক্রেটারি আল আমিন হোসেন, লবণচরা থানা আমীর সেলিম বাহার ও সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন, ব্যাংকার্স কল্যাণ পরিষদ খুলনা জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম পারভেজ, সেক্রেটারি চৌধুরী মনিরুজ্জামান, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবিউল ইসলাম ফয়সাল প্রমুখ।

গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে সরকারকে জনগণের আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় আপাতত উপেক্ষা করে অনেক কিছু করা গেলেও জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার রায় বাস্তবায়ন না করলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের কাছে ওয়াদা করেছিল, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কাজ করবে। সরকার তা বাস্তবায়ন না করলে আমরা সংসদে ও সংসদের বাইরে আন্দোলন করে যাব। আপনারাও সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধু দলীয় পরিচয় থাকলেই হবে না; একজন কর্মীকে চরিত্রবান হতে হবে। মানুষের হক নষ্ট করলে পরকালে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে উল্লেখ করে কর্মীদের আমল ও চরিত্র সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কর্মীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন আজহারুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, শুধু সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই সংগঠন শক্তিশালী হয় না। কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় না হলে সংগঠন বাইরে থেকে বড় হলেও ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়বে।

তিনি দায়িত্বশীল নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, সম্প্রসারণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং তাদের মান উন্নয়ন এই চারটি মৌলিক কাজ গুরুত্বের সঙ্গে করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীলদের সংগঠনের জনশক্তির ‘পাহারাদার’ হওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতি রহমদিল হওয়ার আহ্বান জানান।

সামনে নির্বাচন উল্লেখ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে শুধু মানুষের সমর্থন থাকলেই হবে না; সেই সমর্থনকে ভোটে রূপান্তরের সাংগঠনিক সক্ষমতা থাকতে হবে। এজন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জামায়াতের প্রতি সমর্থন নেই বা ধর্মীয়ভাবে অনুশীলনে দুর্বল,এমন মানুষদেরও দূরে ঠেলে না দিয়ে কাছে টানার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, সংগঠনকে বটগাছের মতো হতে হবে, যাতে ভালো-মন্দ নির্বিশেষে মানুষ আশ্রয় পায়। তবে কাউকে কাছে টানার অর্থ তার খারাপ কাজকে অনুমোদন দেওয়া নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, ডাক্তার রোগীকে ঘৃণা করেন না, রোগকে ঘৃণা করেন। একইভাবে মানুষের ভুল ও দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। যোগ্য ও সম্ভাবনাময় মানুষকে চিহ্নিত করে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বার হওয়ার জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা থেকেই সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হতে হবে। জান্নাতের আকাঙ্ক্ষাই কর্মীদের কাজের মূল ফুয়েল বা প্রেরণা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজহারুল ইসলাম বলেন, সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় থাকার জন্য বারবার কাউকে মনে করিয়ে দিতে হলে বুঝতে হবে, সেই কাজের গুরুত্ব তাঁর কাছে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই কর্মীদের মধ্যে পরকাল ও জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ইসলামী আন্দোলনে অর্থ ও সময় ব্যয় করার আহ্বান জানান। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের মুক্তিকে সামনে রেখে কর্মীদের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও সংসদের বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাঁর দাবি, জুলাই সনদের মৌলিক সংস্কারগুলো বাদ দিয়ে খণ্ড খণ্ডভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন থেকে সরে গেছে। গণভোটের রায় অস্বীকার করে তারা জনগণের সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তুলেছে। মতপার্থক্য ও ভিন্নমত থাকলেও শূরা ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় প্রায় শত বছরের ইতিহাসে নানা নির্যাতন-নিপীড়নের পরও এ সংগঠন ভেঙে পড়েনি। নেতাদের ফাঁসি, হত্যা ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার মতো পরিস্থিতির মধ্যেও আদর্শ ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ধরে রেখে জামায়াত এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তার সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষাও যুক্ত ছিল। তাঁর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ, দুর্নীতি ও দলীয়করণ ঠেকাতে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জুলাই সনদ তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, পাঁচ বছর পরপর জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনগণের সমর্থন নিয়ে একদিন জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারবে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নির্বাচনে জামায়াত সরকার গঠন করতে না পারলেও দলটির প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয়েছে দাবি করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেখেছি, বিএনপি দেখেছি, জাতীয় পার্টি দেখেছি—সব দলই দেখেছি। নতুন প্রজন্মের জন্য অন্তত এই দলটাকে ভোট দিয়ে দেখি, রাষ্ট্রটা ভালোভাবে চালাতে পারবে কি না এমন মনোভাব থেকেই মানুষ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিতে যাওয়ার সময় বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন পরিবহনে দাঁড়িপাল্লার স্লোগান দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচনে এমন জনস্রোত আগে দেখা যায়নি। এর মধ্য দিয়ে জামায়াত, সৎ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সুবিচারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রকাশ ঘটেছে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার উঠেছিল।

তবে নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়াকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জামায়াত সরকার গঠনের কাছাকাছি গিয়েও দায়িত্ব পায়নি এটিকে তিনি একটি স্পিডব্রেকার হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, সংগঠনের কোথায় দুর্বলতা, কোথায় ত্রুটি ও অক্ষমতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে আগামী পাঁচ বছরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি সংগঠনকে গাড়ির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, গাড়ি চালানোর আগে যেমন নাট-বল্টু পরীক্ষা, গ্রিজ-মবিল দেওয়া ও ত্রুটি মেরামত করতে হয়, তেমনি সংগঠনকেও শক্তিশালী ও প্রস্তুত করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরকে সেই প্রস্তুতির সময় হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের ৮৪টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অসীম ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষ নিয়োগ এবং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কর্তৃত্ববাদ, ভিন্নমত দমন ও অনিয়ম বন্ধের মতো বিষয় ছিল।

তাঁর দাবি, বিএনপি এসব মৌলিক বিষয়ে ভিন্নমত দিয়ে এখন গণভোটের গণরায় মানতে চাইছে না। তিনি বলেন, অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ মানব এমন বক্তব্য বাস্তবে শুভংকরের ফাঁকি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কিছু নামমাত্র সংস্কার করা হলে সংবিধানের মৌলিক চরিত্রে পরিবর্তন আসবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংশোধন নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার চায়। এ লক্ষ্যে দলটি সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আগামী নির্বাচনের জন্য সংগঠিত করার রাজনৈতিক কৌশলও অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি জনগণের যে আস্থা রয়েছে, তা ধরে রাখা তাদের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে সেই আস্থা বিরোধী দলের দিকে আসবে বলে তিনি মনে করেন। আগামী নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।

সংগঠনের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও পরিশ্রমের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নেতাদের শাহাদাত, রক্ত, ত্যাগ এবং কর্মীদের রাত-দিনের পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সংগঠন আজকের অবস্থানে এসেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণের যে সমর্থন ও আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি জামায়াতের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, এই আস্থা ধরে রাখতে এখন সংগঠনের দুর্বলতা কাটিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণে জামায়াত সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।