যশোরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব,সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ) সকাল ৮টায় যশোর শহরের ঈদগাহ বটমূল প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যশোর সংস্কৃতিকেন্দ্র।
নববর্ষের নব স্বপ্নে, নব উদ্যমে জাগো এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে অপসংস্কৃতির যে আগ্রাসন দেখা যাচ্ছে, তা থেকে যুবসমাজকে বেরিয়ে এসে আমাদের নিজস্ব সভ্য ও শালীন সংস্কৃতির চর্চায় মনোযোগী হতে হবে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশেই জাতির উন্নতি নিহিত।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। যশোর দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য খ্যাত। তিনি বলেন, আমাদের সংস্কৃতিকে লালন ও সংরক্ষণ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবির বিন সামাদ, অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে যশোরের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংগঠন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল যশোর সাংস্কৃতিক সংসদ, জীবন তরী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন, তরঙ্গ শিল্পীগোষ্ঠী, মুন্সি মেহেরুল্লাহ সাংস্কৃতিক আলোচনাকেন্দ্র, সূর্যোদয় শিল্পীগোষ্ঠী, নজরুল সাহিত্য পরিষদ, যশোর থিয়েটার, ফুলকুঁড়ি আসর, রেনেসাঁ শিল্পীগোষ্ঠী, প্রতিফলন শিল্পীগোষ্ঠী, আঁতার মেলা শিল্পীগোষ্ঠী, রংধনু শিল্পীগোষ্ঠী ও ঠিকানা কালচারাল একাডেমি।
শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে বৈশাখের আনন্দকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। লোকজ গান, পল্লীগীতি ও বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
সার্বিকভাবে, নববর্ষের এই আয়োজন যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। নতুন বছরের শুরুতে এমন আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।