মো: খিজির উদ্দিন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : সুন্দরগঞ্জের মৃৎ শিল্পের বেশ সুনাম ছিলো। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় বর্তমানে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্পগুলো বিপন্ন হতে চলছে। এতে বহু লোক বেকার হয়ে পড়ছে। এই উপজেলার বেলকা, কলের কুয়া, চরিতাবাড়ী, ধুবনী কুমারের ভিটা, সীচা প্রভৃতি গ্রাম মৃৎ শিল্পের প্রাণ কেন্দ্র ছিলো। এসব গ্রামে প্রায় ৪ হাজার মৃৎ শিল্প কাজ করতো। তারা সুনিপুন ভাবে হাড়ি-পাতিল, বাসন কোসন, ঢাকনা কল্কে, পেয়ালা প্রভৃতি তৈরি করতো। তাদের তৈরি তৈষজপত্র শুধু গাইবান্ধা জেলায় নয় বিস্তৃীর্ণ এলাকায় সরবরাহ হত। বর্তমানে নানান প্রতিকুলতার স্বীকার হয়ে উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়েছে। এখন মাত্র স্বখানেক মৃৎ শিল্পী তাদের পৈত্রিক পেশা কোন রকমে আকরে ধরে আছে। তাদের পেশার দৈন্যদশার সাথে সাথে সংসার জীবনে বিরাট বিপর্যয় নেমে এসেছে।
সুন্দরগঞ্জে মৃৎ শিল্পের এই বিপর্যয় নেমে আসার পিছনে একাধিক কারণ ও রয়েছে। মাটির তৈরি তৈযজপত্রের স্থান দখল করে নিয়েছে এ্যালুমেনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্র। এসবের দাম বেশি হলেও অধিক টিকসই তাই গ্রামের সাধারণ মানুষ দাম বেশি হলেও এ্যানুমেনিয়াম প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রই কিনে থাকে। বর্তমানে গ্রামঅঞ্চলে খেলনা, পুতুল ও বেবি ব্যারক ছাড়া অন্যকোন মৃৎ শিল্পের গ্রাহক নেই বললে চলে। অপর দিকে মৃৎ শিল্পের উপকরনের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ইতিপূর্বে যেসব রং প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হতো তবে বর্তমানে তা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দাঁড়িয়েছে। জ¦ালানী কাঠের ও দামও বেড়েছে কয়েকগুন। একই সাথে মাটির পরিবহন খরচ ও বেড়েছে। উৎপাদন খচর বৃদ্ধি পেলেও বিক্রি মুলো সে হারে বাড়ে নেই। ফলে ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্পের ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে। তারা ঋণের ভারে জরজরিত হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পেশাগত মানউন্নয়নের প্রয়াস বাদ দিয়ে বেচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ ঋণ বরাদ্দ না করা হলে আগামী দুই এক বছরের মধ্যে এই শিল্প বিলুপ্ত হতে পারে।