শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুরে গণপিটুনিতে ২ ডাকাত নিহতসহ আরো ৬ ডাকাত আহত হয়েছে। ডাকাতদের গুলী ও ককটেলের আঘাতে আহত ৪ জনের মধ্যে গুরুতর ২ জন ও ৫ ডাকাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মাদারীপুরে কীর্তিনাশা নদীতে একটি বাল্কহেডে ডাকাতির চেষ্টার সময় কর্মচারী এবং এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে শরীয়তপুরের দিকে পালিয়ে আসে ডাকাতদল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মসজিদের মাইকে প্রচারের ফলে রাজগঞ্জ কীর্তিনাশা পাড়ে হাজার হাজার জনতার গণপিটুনির কবলে পড়ে ডাকাতদল। এসময় গণপিটুনিতে ২ জনের মৃত্যু ঘটে। ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত জনতা ও ডাকাতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর থেকে ডাকাতদের একটি সংঘবদ্ধ দল শরীয়তপুরে ঢুকছে- এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইক থেকে সতর্ক বার্তা প্রচার করলে ডাকাত প্রতিরোধে স্থানীয়রা টর্চলাইট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কীর্তিনাশা নদী পাড়ে জড়ো হয়। শুক্রবার রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে আংগারিয়া এলাকা থেকে রাজগঞ্জ পর্যন্ত হাজারো জনতা নদী এবং নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদল স্পিডবোট রেখে গুলী ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কীর্তিনাশা নদীর রাজগঞ্জ মোড় থেকে ডোমসার এলাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ডাকাতদের এলোপাতাড়ি গুলী ও ককটেলের আঘাতে বাল্ক হেডের শ্রমিক পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মাসুম মিয়া (৩০) ও পিরোজপুরের কালিকাঠীর আলামিন ফকির (১৯), শরীয়তপুর সদরের ডোমসার মোল্যাকান্দি এলাকার তোতা মিয়া (৩৫)সহ চারজন আহত হয়। গণপিটুনির কবলে পড়ে ৭ ডাকাত। পুলিশ ডাকাতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ২ ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জনতা পলাতক আরো ১ ডাকাতকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

আহত ডাকাতদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের কালীচর থানার রিপন (৪০), শরীয়তপুরের জাজিরার কুন্ডের চরের আনোয়ার দেওয়ান (৫০), মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুরের সজীব (৩০)সহ নিহত ও আহত ডাকাতদের পরিচয় জানতে পুলিশ তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মুনতাসির খান বলেন, ডাকাতদের গুলীতে আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। অন্যদের হাসপাতালে ও গুরুতর আহতদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত ৫ ডাকাতকেও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম বলেন, গতরাতে ৭ ডাকাত ও আজ সকালে ১ ডাকাত গণপিটুনির কবলে পড়ে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসাপাতালে নিয়ে আসে। গণপিটুনির কবলে পড়া ৭ জনের ২জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমরা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্ত শেষে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়াও আমরা জেলায় ডাকাতির ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তৎপরতার সাথে টহল জোরদার করেছি।