এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈষম্য নিরসনকল্পে পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা ও শিক্ষা ভাতা প্রদানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
৭ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের নিকট কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বাশিশিকফো) এই স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি এস এম এম নুরুজ্জামান, জেলা সহ-সভাপতি রবিউল আলম ও আজিজুল হক, কুমারখালী উপজেলা সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোহাম্মদ বশির আহমেদ, শিক্ষক নেতা রবিউল আলম বাবু, রবিউল আলম রাশেদ, মোকসেছ আলী, মোনায়েম খান, আফজাল হোসেন, মাওলানা শাহিনুর আলম, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শিক্ষক নেতারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠদান কার্যক্রম বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ পাহাড়সম বৈষম্যের শিকার। সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতনস্কেলের অন্তর্ভুক্ত করেন। পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ নানা আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগতিতিক্ষার বিনিময়ে বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট, ২০% বৈশাখী ভাতা, ৫০% উৎসব ভাতা ও ১৫% বাড়ি ভাড়া প্রাপ্ত হচ্ছেন। সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন। তিনি চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১০ সালের ২ মে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিএনপি আবার সরকার গঠন করতে পারলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হবে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ এমপিও খাত থেকে যে বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হচ্ছেন, তা দিয়ে সংসারের খরচ নির্বাহ করা অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে ন্যূনতম সম্মান বজায় রেখে সংসার চালনার জন্য সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা ও শিক্ষা ভাতা প্রদানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা অতীব জরুরি।
এমপি আফজাল হোসেন শিক্ষক নেতাদের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংসদে আলোচনাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।