গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবহন চালককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। বুধবার দুপুর দুইটা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, জৈনাবাজারের আহম্মদ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকটি যানবাহন মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় চালক নামাজে গেলে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল এসে গাড়ির লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে চালক এসে বাধা দিলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা দেখে অন্য চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং একপর্যায়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে মহাসড়কের লেন দখল করে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যানবাহন সরাতে গেলে চালকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই লেনেই কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক যাত্রী বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আন্দোলনরত চালক আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে, এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অপরদিকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

খবর পেয়ে মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আলোচনা শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি, কামরুজ্জামান জানান, যানজট নিরসনে কাজ করতে গিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।