শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: দীর্ঘ দুই যুগের প্রতীক্ষার পর অবশেষে পিতৃ স্বীকৃতি পেলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের পাতড়াখোলা গ্রামের মো. রাশিদুল ইসলাম। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুনের ন্যায়নিষ্ঠ তদন্ত ও সাহসী পদক্ষেপে শেষ হলো একটি দীর্ঘ দিনের পারিবারিক জটিলতা।
মৃত ছামছুর রহমান মোড়লের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ রাশিদা বেগমের একমাত্র সন্তান রাশিদুল ইসলাম। প্রথম পক্ষের সন্তানরা তাকে ওয়ারিশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন, ফলে তিনি পৈতৃক সম্পত্তি ও সামাজিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি ইউএনও’র দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে উপস্থাপিত হয় রাশিদুল ইসলামের শিক্ষাগত সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদ, ৯৪ জন স্থানীয় বাসিন্দার স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রসহ একাধিক প্রমাণপত্র। সবকিছু যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি ছামছুর রহমান মোড়ল ও রাশিদা বেগমের বৈধ সন্তান।
ফলস্বরূপ, গত ২১ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে স্মারক নম্বর ০৫.৪৪.৮৭৮৬.০০০.০০.০০২.২৪.৯০৫ অনুযায়ী রাশিদুল ইসলামকে বৈধ ওয়ারিশ ঘোষণা করে সনদ প্রদান করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ছামছুর রহমান মোড়লের দুই স্ত্রী, চার পুত্র ও এক কন্যাসহ মোট সাতজন বৈধ ওয়ারিশ রয়েছেন।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় ইউএনও রনী খাতুনের সাহসিকতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। রাশিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন অবহেলায় জীবন কাটিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মসজিদে ইমামতি ও প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পিতৃ স্বীকৃতি তার জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।
তবে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান। প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু কাগজে নয়, এটি আমার আত্মপরিচয়ের প্রমাণ।”