চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : দেশের সর্ববৃহৎ চিনিশিল্প কমপ্লেক্স চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কো¤পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে তল্লাশী চালিয়ে ৩য় দিনে আরো ৪টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এতে করে ৩দিনে মোট ৬টি বোমা উদ্ধার হলো। এর আগে গত বৃহ¯পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ও শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেনারেল অফিস সংলগ্ন এলাকায় একই প্রকৃতির ১টি করে ২টি বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে দু’দিনই রাজশাহী থেকে আসা র্যাব-৫ এর বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বোমা দুটি নিস্ক্রিয় করে। এ সময় তারা বোমা দুটি শক্তিশালী বলেও জানায়। পরপর ৩দিন কেরুতে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দু’দিনে পৃথক দুটি স্থান হতে রোমা উদ্ধারের পর গতকাল রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে যৌথ বাহিনী তল্লাশী শুরু করলে এক পর্যায়ে দুপুরে কেরু চিনিকল এলাকার কেরুজ শ্রমিকলীগ নেতা ও শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে সেক্রেটারি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন নফরের সাংগঠনিক অফিসের পিছন থেকে এই ৪টি বোমা উদ্ধার করা হয়।
দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শহীদ তিতুমীর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পরপর দুটি বোমা উদ্ধার হওয়ায় যৌথবাহিনী কেরু এলাকায় তল্লাশী শুরু করে। এতে চারটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
স্থানীয় ও প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানে সদ্য স্থগিত হয়ে যাওয়া শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোনো পক্ষ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন- কেরুর নির্বাচন ঘিরে টাকার ছড়াছড়ি চলে, যেহেতু নির্বাচন স্থগিত রয়েছে সেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নেতা বা কর্মচারীদের নিকট হতে আর্থিক সুবিধা পেতে আতঙ্কে রাখতে এধরনের কাজ করতে পারে। আবার কারো মতে কেরুজ নির্বাচন ব্যয় বহুল ব্যাপার। নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকতে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন বন্ধ রাখতেও এমন করা হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, কেরু চিনিকল শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারন নির্বাচনে সেক্রেটারী পদপ্রার্থী ও কেরুর পার্বতিপুর বন্ডেড ওয়ার হাউজের ইনচার্জ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৌমিক হাসানকে পঞ্চগড় সুগার মিলে বদলি করলে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তার সমর্থকরা লঙ্কাকান্ড ঘটায়। নজিরবিহীনভাবে বদলী বাতিলের দাবীতে ঐদিন বেলা দেড়টা মিলের কেইন ক্যারিয়ার, কারখানা ও বয়লার বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তারা মিলের প্রধান ফটকের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও মিল এলাকায় মিছিল করতে থাকে। রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা জেনারেল অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে। রাতেই চুয়াডাঙ্গা সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে। পরে ইউনিয়ন নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তারপর থেকে এই বোমা উদ্ধার শুরু হয়েছে। তকে এ ঘটনায় অদ্যবধি কোন আটক নেই।