২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের সাংবাদিক পরিবারের সন্তানরা কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কেউ জিপিএ-৫, কেউ গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং কেউ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জিহান আন নুর রকিব। সে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আর্কিটেক্ট হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। জিহান প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য, দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার রকিব হোসেন স্বপন এবং ব্যাংকার মনিকা পারভীন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। সে সকলের দোয়া কামনা করেছে।
যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী সাদিয়া মেহেজাবিন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য কাজী এ এন এম নুরূজ্জামানের কন্যা। তাঁর মা সেলিনা আক্তার একজন সরকারি চাকরিজীবী।
সাদিয়া জানান, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তাঁর লক্ষ্য। এজন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সাবিদুর রেজা খান। সে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য আবিদুর রেজা খান ও নাজমুন নাহারের ছেলে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় সাবিদুর। উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে সে।
সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৮ অর্জন করেছে মোছা. মুসলিমা আমিন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য রুহুল আমিন ও নূরজাহানের কন্যা। মুসলিমা ভবিষ্যতে মানুষের সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় এবং সবার দোয়া কামনা করেছে।
যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করেছে মোস্তানূর রহমান সাক্ষর। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা এবং নূরজাহান আরা নীতির ছেলে। সাক্ষর জানায়, ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
অন্যদিকে, যশোর বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সাদিয়া শবনম সরণি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয় ও মরহুমা শামীমা আক্তার স্বপ্নার কন্যা। সরণির পিতা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর মায়ের মৃত্যু হলেও সেই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরণি পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।
সাংবাদিক পরিবারের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যেও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা সবার।