নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মেয়ে ফাতেমা খানম চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান। ভর্তি ও প্রাথমিক খরচ বাবদ প্রায় ছয় লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে এ অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে তাঁর দীর্ঘদিনের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

ঠিক এমন মুহূর্তে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে ফাতেমাকে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

পরিবারের দাবি, ওই অর্থ পাওয়ার কারণেই মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানমের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে নতুন আশার আলো জ্বলেছে। যার সম্পূর্ণ অবদান দিয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। ভবিষ্যতে ফাতেমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানান পরিবারটি।

ফাতেমা ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। পরে আইইএলটিএস সম্পন্ন করে সিএসসিএ (CSCA)-এর মাধ্যমে আবেদন করেন। অনলাইন ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমোদন পান এবং ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থী ভিসাও সংগ্রহ করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। স্বল্প আয়ের পরিবারটির পক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।

ফাতেমা খানম বলেন, আজকে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই আনন্দের একটি দিন। যা আমি কাউকে বলে বুঝাতে পারব না। অর্থের অভাবে আমার ডাক্তার হওয়ার যে স্বপ্ন, সেটা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। আর এর পেছনে সমস্ত অবদান আমাদের নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আপুর।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ২১ দিন আগে ৫০ হাজার টাকা করে তিনটি চেক দিয়েছেন। সেটাও মাননীয় মন্ত্রী পুতুল আপুর কারণেই পেয়েছি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফ্লাইট।

সকলের নিকট দোয়া চেয়ে আরও বলেন, আমি ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরে আসতে চাই এবং দেশ ও এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করব।

ফাতেমার মা হাবিবা খানম বলেন, অভাবের কারণে আমি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি। তাঁর স্বপ্ন পূরণে এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রী পুতুলের এই সহযোগিতা তিনি আজীবন মনে রাখবেন এবং তাঁকে মেয়ের আসনে রাখবেন।

ফাতেমার বাবা লাভলু খাঁন বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে তিনি নিজের উদ্যোগে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতার ব্যবস্থা করায় প্রতিমন্ত্রী পুতুলের প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।