গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৮টি জোন ও ৫৭টি ওয়ার্ডে উন্নতমানের খেলার মাঠ এবং আধুনিক ফুটসাল টার্ফ (আধুনিক কৃত্রিম ঘাসের খেলার মাঠ)নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি শনাক্ত ও প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত এসব মাঠ নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গী প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: অর্জন, প্রত্যাশা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, 'নগরীর শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে জমি শনাক্তকরণ ও ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই পর্যায়ক্রমে ৮টি জোন ও ৫৭টি ওয়ার্ডে উন্নতমানের খেলার মাঠ ও আধুনিক ফুটসাল টার্ফ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।'
তিনি বলেন, খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সিটি কর্পোরেশন নগরীর প্রতিটি এলাকায় শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খেলার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।
টঙ্গীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ঐতিহ্যবাহী কলেজগেট অডিটোরিয়াম ও স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণটি সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে বুয়েটের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সিটির আঞ্চলিক কার্যালয়ের স্থানে ১০ তলা ভবন নির্মাণের নকশার কাজও এগিয়ে চলছে।
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিআরটি প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেরাগ আলী ও কলেজগেট এলাকায় রেলিং ফেন্সিং নির্মাণ, নতুন ফুটওভার ব্রিজ চালু এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।
পাশাপাশি টঙ্গী প্রেস ক্লাবের জন্য নিজস্ব ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণেও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন হচ্ছে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ ও একটি মুক্ত পরিবেশ। সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর অতীতে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা থেকে উত্তরণে পেশাদার সাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অপসাংবাদিকতা দূর করে সাংবাদিকতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠিত করা এবং তাদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।
টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, জিএমপি (দক্ষিণ)-এর এডিসি মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সৈয়দ আতিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে অর্থবহ করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাগত সাংবাদিকতার বিকাশ এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।