আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মোঃ আব্দুস সালাম সেলিম। সততা, ন্যায়বিচার, উন্নয়ন ও জনসেবা’কে অঙ্গীকার হিসেবে সামনে রেখে তিনি জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নকে একটি নিরাপদ, উন্নত ও আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন আব্দুস সালাম সেলিম। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে ‘নিরাপদ জাঙ্গালিয়া ও নাগরিক সেবা’। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

মোঃ আব্দুস সালাম সেলিম জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের নরুন মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মোঃ হাফিজ উদ্দিন আকন্দ এবং মাতা মরহুমা ফাতেমা বেগম। নরুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে হিফজ সম্পন্ন করেন এবং আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটান। বর্তমানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই আব্দুস সালাম সেলিম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গাজীপুর সদর থানা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্রজীবন শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর সদর থানার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং কালীগঞ্জ থানা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরের যুব বিভাগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন আব্দুস সালাম সেলিম। তিনি নরুন মসজিদপাড়া যুব সংঘের সদস্য, যাকাত পুনর্বাসন প্রকল্প নরুনের সেক্রেটারি, সমাজ কল্যাণ পরিষদ জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সদস্য সচিব এবং ইসলামী পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ পরিষদ নরুনের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া উন্নয়ন ফোরাম জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আব্দুস সালাম সেলিম। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং ইউনিয়নবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন তিনি।

এ ছাড়া সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল, যুবকদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিখাতকে আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলোও তাঁর উন্নয়ন ভাবনায় রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তিনি।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে মোট ৯টি ওয়ার্ড ও ১৯টি গ্রাম রয়েছে। ইউনিয়নটির সর্বমোট ভোটার ২৬ হাজার ৮৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৭৭৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৫৯ জন। প্রায় ২৭ হাজার ভোটারের এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মোঃ আব্দুস সালাম সেলিমের পাশাপাশি বিএনপির তিন প্রার্থী হলেন ইউনিয়ন সভাপতি নেসার আহমেদ নুহু, আ ক ম মোফাজ্জল হোসেন ও ইয়াসিন মোল্লা।

নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুস সালাম সেলিম সততা, ন্যায়বিচার, উন্নয়ন ও জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরছেন। তাঁর প্রচারসামগ্রীতে ‘আমাদের জাঙ্গালিয়া আমরাই গড়বো’ এবং ‘নিরাপদ জাঙ্গালিয়া ও নাগরিক সেবা আমার অঙ্গীকার’-এই বার্তাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও আদর্শ জনপদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়ন, জনসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে।