আজিজুর রহমান মশিউর : সংসদ সদস্য হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধির চারপাশে তৈরি হয় নানা আনুষ্ঠানিকতার বলয়। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়ে পড়ে কঠিন। তবে যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কিছুটা ভিন্ন চিত্র। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যেও সময় পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে। চায়ের দোকানে বসে চা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলা, ভ্যানচালকের জীবনের গল্প শোনা, দিনমজুরের কষ্টের কথা জানা কিংবা হাসপাতালে গিয়ে রোগীর পাশে কিছু সময় কাটানো—এসব কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠছে তার জনসম্পৃক্ততার চিত্র।
সংসদ সদস্য হওয়ার নয় মাসের পথচলায় অভয়নগর ও বাঘারপাড়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুল। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে তার সহজ-সরল আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
অভয়নগরের চা বিক্রেতা তোবিবর বলেন, এমপি সাহেব আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে এসে কথা বলেন এটাই আমাদের কাছে বড় বিষয়। তিনি চায়ের দোকানে বসে আমাদের কথা শুনেছেন। এতে মনে হয়েছে, তিনি শুধু বড়লোক বা প্রভাবশালী মানুষের এমপি নন, সাধারণ মানুষের কথাও তিনি গুরুত্ব দিয়েই শুনেন।

অভয়নগরের ভ্যানচালক আসলাম বলেন,আমরা সারাদিন রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আমাদের সমস্যা অনেক, কিন্তু সেগুলো বলার সুযোগ সবসময় হয় না। এমপি সাহেব যখন আমাদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন ভালো লাগে। তিনি আমাদের কষ্টের কথা জানতে চান, তাতেই আমাদের বুকটা ভরে যায়।
বাঘারপাড়ার দিনমজুর সোলায়মানের জীবনও সংগ্রামে ভরা। দিনভর শ্রম দিয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেন তিনি। সোলায়মান বলেন, দিনমজুরের জীবন কতটা কষ্টের, তা দিনমজুর ছাড়া কেউ বুঝবে না। এমপি সাহেব আমাদের কাছে এসে কথা বলেন, খোঁজ নেন এটা ভালো লাগে। আমরা চাই, তিনি সবসময় গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে যেন থাকেন।
জনসম্পৃক্ততার এই চিত্র শুধু রাস্তা কিংবা হাটবাজারে সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালেও রোগীদের খোঁজখবর নিতে দেখা যায় তাকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী সামিউল বলেন, হাসপাতালে এসে এমপি সাহেব রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধি যখন অসুস্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান, তখন রোগী ও স্বজনরা মানসিকভাবে সাহস পান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধ্যাপক গোলাম রসুল সময় পেলেই সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এই সরাসরি যোগাযোগের ফলে এলাকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলায় তাদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার নানা সমস্যার বিষয় সামনে আসছে।
রাজনীতিতে জনপ্রতিনিধিত্বের সবচেয়ে বড় জায়গা জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং সুখ দুঃখে অংশ নেওয়াই একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই অধ্যাপক গোলাম রসুল সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তার দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন।
চা বিক্রেতা তোবিবর, ভ্যানচালক আসলাম, দিনমজুর সোলায়মান কিংবা হাসপাতালের রোগী সামিউল—সমাজের এই মানুষগুলোর কাছে জনপ্রতিনিধির পদ-পদবি নয়, বরং তাদের সঙ্গে কতটা আপন হয়ে কথা বলা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বক্তব্যে তাই উঠে এসেছে অধ্যাপক গোলাম রসুলের প্রতি ইতিবাচক অনুভূতি।
তবে সংসদ সদস্য হিসেবে মাত্র নয় মাসের কর্মকাণ্ড দিয়ে তার সামগ্রিক মূল্যায়ন করা কঠিন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সংসদীয় ভূমিকা, এলাকার সমস্যা সমাধানসহ নানা ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে তার কার্যক্রমই হবে মূল্যায়নের মূল মাপকাঠি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে জনসম্পৃক্ত রাজনীতির একটি ইতিবাচক দিক।
খেটে খাওয়া মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক ব্যস্ততা যতই থাকুক জনপ্রতিনিধি যেন তাদের কথা শোনার সময় বের করেন। কারণ একজন চা বিক্রেতা, ভ্যানচালক, দিনমজুর কিংবা হাসপাতালের রোগীর কাছে কখনো কখনো বড় কোনো প্রতিশ্রুতির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন জনপ্রতিনিধির কয়েক মিনিট সময়, আন্তরিক কথা ও পাশে থাকার আশ্বাস।
আর সেই জায়গাতেই অধ্যাপক গোলাম রসুলের গত নয় মাসের পথচলায় ফুটে উঠছে একটি বার্তা—জনপ্রতিনিধিত্ব শুধু ক্ষমতার আসনে বসা নয়, মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের কথা শোনা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই তার প্রকৃত অর্থ।
এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি জনগণের আমানত ও দায়িত্ব। অভয়নগর-বাঘারপাড়ার সাধারণ মানুষ আমাকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে চাই। আমি আমার এলাকার সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরেছি।
আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই এলাকার মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন। অভয়নগরের দীর্ঘদিনের ভবদহ জলাবদ্ধতা ও জলাবদ্ধতাজনিত সমস্যা নিরসনে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের কথা সংসদে তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে মাদরাসা, স্কুল, কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও আধুনিক ও মানসম্মত করার বিষয়ে উপস্থাপন করেছিন।
অভয়নগর ও বাঘারপাড়াকে মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-ওলামা, তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করা হবে।
আমি বিশ্বাস করি, এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়,মানুষের নিরাপত্তা,শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন। জনগণের পাশে থেকে সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যেতে চাই।###