আবদুল হাই ইদ্রিছী, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বন বিট। সংরক্ষিত এ বনে রয়েছে তিনটি বাঁশ মহাল। অভিযোগ রয়েছে এ বাঁশ মহালের সুনারায়, কুরমা ও চাম্পারায় থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বাঁশ পাচার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে সম্প্রতি হামহাম জলপ্রপাতের যাওয়ার সরু পথ ধরে চাম্পারায় বাঁশ মহালে প্রবেশ করলে চোখ কপালে উঠে যায়। যেদিকে চোখ পড়ে সেদিকেই বাঁশ কেটে পাচারের চিহ্ন ছিল দৃশ্যমান। পড়ে রয়েছে বাঁশের খন্ডাংশ। পথের পাশেই যখন এই অবস্থা গহীন বনের চিত্র হয়তো আরও ভয়াবহ। সরু পথ ধরে হাটতে হাটতে দেখা হয় বনের উপকার ভোগীদের সাথে। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জুলাই আগস্টের ছাত্রজনতার গণঅভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর এ বনে দা আর শাখের করাত চালায় দুর্বৃত্তরা। বাঁশ আর গাছ দুটোই লুট হয়। পরে দুর্বৃত্তদের এ থাবাকে কৌশলে কাজে লাগায় স্থানীয় বন বিভাগের অসাধু বন কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন বন বিট কর্মকর্তা মো. বিপ্লব হোসেন সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে স্থানীয় কতিপয় লোকের মাধ্যমে তিন বাঁশ মহাল থেকে মুলি, মির্তিঙ্গা, রূপই সহ প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ বাঁশ পাচার করেন। স্থানীয়দের হিসাবে পাচার হওয়া বাঁশের বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাঁশ মহাল বিক্রির সর্বশেষ দরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি দরে বাঁশ মহাল নিলামে বিক্রি করা হয়। সে হিসাবে প্রতি মুলি বাঁশ ২০ টাকা, রূপই বাঁশ ২৫ টাকা ও মির্তিঙ্গা বাঁশ ৩৫ টাকা। আর তিন প্রজাতির বাঁশের গড় বাজার মূল্য ২০ টাকা (প্রতি পিছ) ধরা হলে স্থানীয়দের তথ্যের সাথে বাঁশ পাচারের মহোৎসবের অর্থের অংকের হিসাব মিলে যায়।

সরজমিনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বাঁশ পাচার হয়েছে চাম্পারায় বাঁশ মহালের হামহাম যাওয়ার পথে। এই পথে যতদূর চোখ যায় শুধু কাটা বাঁশের চিহ্ন চোখে পড়ে। এছাড়া চাম্পারায় বাঁশ মহালের মোল্লার জানিয়া, ডাইনের গাঙ, মাষ্টার জানিয়া, কুরমা বাঁশ মহালের পিকল ও ভাবীর জুম এলাকা, ৪ নাম্বার ও ১০ নাম্বার এলাকা থেকেও বাঁশ পাচার হয়েছে। একই অবস্থা সুনারায় বাঁশ মহালেও। কুরমা বাঁশ মহালের ভাবীর জুম এলাকায় ৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বাঁশ বাগানে গাছ বাগান সৃষ্টি করে সরকারী অর্থের অপচয় করা হয়েছে।