শহীদরাই জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুথানের মূল মাস্টারমাইন্ড বলে মন্তব্য করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, অতীতে যারাই ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারাই জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। কোন নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে এ বিজয় আসেনি। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস বা ঘোষণা দিয়ে এত বড় আন্দোলন হয়নি। এ আন্দোলনের মূল মাস্টারমাইন্ড যারা শহীদ হয়েছেন। দ্বিতীয় মাস্টারমাইন্ড আহতরা। তৃতীয় মাস্টারমাইন্ড গাজীরা। চতুর্থ মাস্টারমাইন্ড পলিসিম্যাকাররা। আন্দোলনে পলিসিম্যাকারদের মধ্যে কয়েকটি লেয়ার ছিল। কোন দল বা ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড বলে জাতীয় চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

গতকাল রোববার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুথানে সাংবাদিকদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। ফ্যাসিবাদ পতনের পর আপনারা প্রফেশনালিজমকে বাস্তবায়নের জন্য ন্যূনতম কোন ধরনের শঙ্কা বোদ করবেন না। সত্যকে সবসময় ফুটিয়ে তুলবেন। আপনারা জাতির বিবেক, তাই বিবেক দিয়ে সত্যকে তুলে ধরবেন। কারণ, সত্য এবং মিথ্যার মিংশ্রণকে আল্লাহতাআলা কখনোই পছন্দ করেন না। আর আমরা যদি বিগত সময়ে দেখি, ফ্যাসিবাদ কায়েম থাকার কারণে সাংবাদিকরা সত্য ও মিথ্যাকে মিশ্রণের এক মহাউৎসবে পরিণত করেছিল। হাসিনার পতনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অতি চাটুকারিতার কারণে রাজাকার বিষয়ে প্রশ্ন আসছে এবং তিনিও হঠাৎ করে মন্তব্য করে ফেলেছে-তাহলে কোটা রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? আপনারা দেখেন, সেখান থেকে অতি চাটুকারিতার কারণে তার ধ্বংসের কারণ।

ছাত্রদের নতুন দল গঠনের বিষয়ে শিবির সভাপতি বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেম স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে না। আমরা তাদের সাথে কাজ করতে প্রস্তত আছি। সেটা নতুন কোন দল হতে পারে বা পুরাতন কোন দল হতে পারে। কিন্তু এর বাইরে যারা অবস্থান নিবে। অথবা জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে তাদেরকে আমরা সমর্থন দিবো না। মূলকথা হচ্ছে, আমরা তখনই নতুন দলকে সাপোর্ট করবো যখন তারা জুলাই-আগস্টের স্পিরিট ও চেতনাকে লালন করবে।

উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ শিবিরের সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের জেলা অফিস সম্পাদক মোশারফ হোসাইন, প্রচার সম্পাদক নূরুল ইসলাম মোল্লা, অর্থ সম্পাদক ইব্রাহীম ভূইঁয়া আজাদ, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক নূরউদ্দিন মাহবুব, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদর সভাপতি মোজাম্মেল হক, চৌদ্দগ্রাম উত্তর সভাপতি নাছিম মিয়াজী, চৌদ্দগ্রাম দক্ষিণ সভাপতি নূরুর রহমান জিন্নাহ, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা সভাপতি হোসাইন আহমেদসহ উপজলা অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।