খুলনা ব্যুরো : খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের কলেজ ছাত্রী অপহরনের এক মাস অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে ভিকটিমের পরিবার চরম হতাশাগ্রস্ত এবং অসহায় হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের পিতা গৌরাঙ্গ কীর্ত্তুনিয়া বাদী হয়ে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২ খুলনাতে মামলা দায়েরের পর মামলাটি রূপসা থানায় ২২ জানুয়ারি নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পিঠাভোগ গ্রামের কালাম মল্লিকের ছেলে মিরাজ মল্লিক (২১) বেশকিছুদিন ধরে ডোবা গ্রামের গৌরাঙ্গ কীর্ত্তুনিয়ার কন্যা কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্রী নন্দিতা কীর্ত্তুনিয়া (১৭) কে কলেজে যাওয়া এবং আসার সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতো। কিন্তু নন্দিতা রাজি না হওয়ায় প্রায়ই উক্ত বখাটে মিরাজ মল্লিক নানাভাবে নন্দিতাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন ধরনের অশালিন অঙ্গভঙ্গ করত। বিষয়টি ভিকটিম তার পিতা মাতাকে জানালে পিতা মাতা উক্ত মিরাজের পরিবারকে জানালেও মিরাজের পরিবার বিষয়টি কর্নপাত করেনি। অবশেষে গত ২ জানুয়ারি নন্দিতা আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কলেজে যাওয়ার পথে ডোবা বাজার এলাকায় আসলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকে মিরাজ ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক নন্দিতা একটি মাহেন্দ্র গাড়িতে উঠিয়ে ডোবা বাজার থেকে আলাইপুরের দিকে নিয়ে যায়। নন্দিতার বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় তার পিতা মাতা সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি অবলোকন করে এবং দ্রুত নন্দিতাকে খুজতে বের হয়। পরবর্তীতে তারা মিরাজ মল্লিকের বাড়িতে এসে মিরাজকে না পেয়ে তাদের পিতা-মাতাকে জিজ্ঞাসা করলে পিতা-মাতা কোন সদ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এদিকে মামলাটি রূপসা থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হলেও এখনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার মূলনায়ক আসামি মিরাজ মল্লিক কে আটক বা ভিকটিমকে উদ্ধার করতে পারেনি ।

এ ব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহফুজুর রহমান জানান, আসামী গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। স্কুল ছাত্রী অপহরণের ঘটনার পর কন্যাকে ফিরে পাওয়ার আশায় পিতা-মাতা দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ।