ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় আদিবাসী কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল কৃষি অফিস। গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণে অংশ নেন ৬০ জন কৃষক। তবে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত প্রশিক্ষণ ভাতার পুরো টাকা তাদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক কৃষকের ভাগ্যে দুপুরের খাবারও জোটেনি। কৃষকদের প্রশ্ন ভাতার বাকি টাকা তাহলে কার পকেটে?
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, আদিবাসী ৬০ জন কৃষকের প্রশিক্ষণ বাবদ মোট বরাদ্দ ছিল ৫৪ হাজার টাকা। প্রত্যেক কৃষকের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা হয় ৬০০ টাকা, যা মোট দাঁড়ায় ৩৬ হাজার টাকা। বাকি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা ছিল সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও খাতা-কলমে। এছাড়া ওইদিন কৃষকদের মাঝে সবজির বীজও বিতরণ করা হয়। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ৬০০ টাকার পরিবর্তে তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা।
তেবাদিয়া গ্রামের কৃষক মানিক চন্দ্র বর্মণ বলেন, রেজিস্টার খাতায় সই করার সময় সেখানে ৬০০ টাকা লেখা ছিল। কিš‘ বিতরণের সময় দেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলে জানান তিনি। তাঁর প্রশ্ন, বাকি টাকা গেল কার পকেটে?
একই অভিযোগ করেন শহরগোপীনপুর গ্রামের রাজন চন্দ্র সরকার। তিনি জানান, তিনি ও তাঁর ভাই কনক চন্দ্র সরকারের ভাগ্যে দুপুরের খাবারও জোটেনি। অভুক্ত থেকেই প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরেন তারা। তাদের হাতেও দেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা।
ফুলমালিরচালা গ্রামের কৃষক মিলন চন্দ্র কর্মণ বলেন, ৩০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়েছে, কিš‘ গ্রামের বাড়ি থেকে ঘাটাইল সদরে যাতায়াতেই খরচ হয়ে গেছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা। দিন এনে দিন খাওয়া এই কৃষক জানান, ৬০০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা পাওয়ায় দিনটি তাঁর মাটি হয়ে গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি স্বপন চন্দ্র কোচ জানান, তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাতা বিতরণের উদ্বোধন করেন। সে সময় ৬০০ টাকা করে দেওয়া হয়। পরে তিনি চলে যান, এরপর কী হয়েছে তা তাঁর জানা নেই।