রেজাউল বারী বাবুল, স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর: গাজীপুরে প্যানারোমা অ্যাপারেলস কারখানার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আশপাশের অন্তত অর্ধশত কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
নিহত শ্রমিকের নাম আফসানা আক্তার লাবনী (২৯)। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের কতোয়ালী থানার জাগির ভুগলী গ্রামে। তিনি স্বামী হৃদয় খান ওরফে মল্লিক মিয়ার (৩০) সঙ্গে গাজীপুরের হাড়িনাল এলাকায় বসবাস করতেন। রবিবার দুপুরে তিনি প্যানারোমা অ্যাপারেলস কারখানার সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ।
বাসন থানার ওসি কায়সার আহমেদ জানান, দাম্পত্য কলহের কারণে লাবনী আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার স্বামী হৃদয় খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সহকর্মীদের দাবি, কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ছুটি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে সোমবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে। এ সময় তারা একটি প্রাইভেটকার ও তিনটি মোটরসাইকেল মহাসড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে দশটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় আশপাশের প্রায় ৫০টি কারখানা এক দিনের ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
কেয়া গ্রুপের শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভঃ
একই দিন গাজীপুরের জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের নীট কম্পোজিট ডিভিশন ও এমপি সোয়েটারস লিমিটেড কারখানার ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যাংকিং জটিলতা ও বাজার অস্থিতিশীলতার কারণে ১ মার্চ থেকে কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে ২,২০৩ জন শ্রমিক ছাঁটাই হন। তাদের পাওনাদি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে, গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকরা এই নোটিশের আওতামুক্ত থাকবেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।