শ্যামনগর, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সেই আদিকাল থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মাধমে টিকিয়ে রেখেছেন প্রাণবৈচিত্র্য ও খাদ্য ভাণ্ডার। একই সাথে সমৃদ্ধ করেছে জ্ঞান ভান্ডার। প্রতিনিয়ত সেই জ্ঞান ছড়িয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। শুধু মাত্র খাদ্য চাহিদার ক্ষেত্রে নয় রোগ নিরাময়েও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী প্রকৃতি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে থাকে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রকৃতির অবদান রয়েছে। আর প্রকৃতির বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছড়া, লতা, গুল্ম সংগ্রহ করে পারিবারিক খাদ্য চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখছেন গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। এগুলোর প্রয়োজনের তাগিদে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এ উদ্ভিদবৈচিত্র্য কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে সংরক্ষণ করছেন।
প্রতিনিয়তি বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে থেকে জীবন জাপন করতে হয় উপকূলবাসীর। একসময় উপকূলীয় এলাকায় ১২ মাস শস্য ফসলে ভরা ছিল প্রত্যেক বাড়ি। প্রত্যেক বাড়ির বাহিরের দৃশ্য দেখে বলা যেতো যে এটা একটি কৃষিবাড়ি। আর এ জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনসচেতনতার অভাবে কৃষি চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকা থেকে অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়াও এর ব্যবহারও আগের থেকে কমে গেছে। বর্তমান প্রজন্মও এর ব্যবহার সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। সেক্ষেত্রে অচাষকৃত এসকল উদ্ভিদ বৈচিত্র্য পারিবারিকভাবে চর্চা এবং নতুনদের মধ্যে ধারণা দিতে, এ উদ্ভিদের ব্যবহার ও গুণাবলীসহ সংরক্ষণের জন্য উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নানান ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। যেমন গ্রাম ও সংগঠন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, গ্রাম ও পাড়া মেলা, রান্না প্রতিযোগিতা, কবিরাজ কর্মশালা, হার্বেরিয়াম শিট তৈরি, স্কুল পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, গল্পের আসর, বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী প্লট তৈরি ইত্যাদি। এর ফলে এলাকায় সচেতন ও আগ্রহী হয়ে উঠেন অনেকেই।
ফলে শ্যামনগর উপজেলায় গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও কেওড়াতলী গ্রাম, কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর, খুটিকাটা ও কাঠালবাড়ি, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের হায়বাতপুর, বেতাঙ্গী, কালমেঘা গ্রাম, রমজাননগর ইউনিয়নের রমজাননগর ও মানিকখালী গ্রাম, কৈখালী ইউনিয়নের মধ্য কৈখালী গ্রাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আড়পাঙ্গাশিয়া ও বুড়িগোয়ালিনী গ্রাম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রাম, নুরনগর ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রাম, ভুরুলিয়া ইউনিয়নের হাটছালা গ্রামের কৃষক- কৃষাণীরা তাদের বসতভিটায় সবজি চাষের পাশাপাশি অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে চলেছেন।
কখনো সবজি ক্ষেতের মধ্যে, কখনো আলাদা প্লট তৈরি করে, পুকুরের পাড়ে, খালের পাড়ে, রাস্তার পাশে এসব অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণ করছেন। যা কিনা নিজ পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের খাদ্য চাহিদা পূরণে সহযোগিতা করছে। প্রতিটি উদ্ভিদের সাথে প্রতিটি প্রাণের রয়েছে পারস্পারিক আন্তঃনির্ভরশীলতা এবং নিবিড় সম্পর্ক।