গাজীপুরের টঙ্গীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে মানবপ্রাচীর গড়ে তোলেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলগামী পথে সংঘটিত এ ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে একদিকে জনমানুষের আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে আইনের শাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিও আস্থা পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
সকাল থেকেই টঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়কের স্টেশন রোড এলাকাসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সকাল প্রায় পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে তারা স্লোগানের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন এবং একপর্যায়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে গাড়িবহরের গতি ধীর করে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হলেও পুরো ঘটনাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্টদের সংযত আচরণ লক্ষ্য করা যায়। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থেকে শান্ত থাকার এবং সড়ক আংশিক ফাঁকা রাখার ইঙ্গিত দেয়া হলে নেতাকর্মীরা তা মেনে নেন এবং ধীরে ধীরে গাড়িবহরটি এগিয়ে যায়। এতে বোঝা যায়, দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিও সম্মান প্রদর্শনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, তার ভাই নূরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং তার মুক্তির বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করেন বলে উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থলে নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকা-ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক আদালত ২০০৫ সালে নূরুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনকে দ-াদেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের আংশিক পরিবর্তন হয় এবং বর্তমানে মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই আসবে এবং সবার প্রত্যাশা- ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মধ্যদিয়ে।