গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হকের গ্রামের বাড়িতে শুক্রবার রাতে হামলা চালানোর চেষ্টা হয়। তবে হামলাকারীরা অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালানোর সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও গ্রামবাসীর সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ধীরাশ্রম দাক্ষিণখান (৩১ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১০০-১৫০ জনের একটি দল "বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন" নামে হামলা চালায়। তারা ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং বাড়িতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে।

তবে পরিস্থিতি পাল্টে যায় যখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কৌশলে “ডাকাত এসেছে” বলে চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তেই পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে শত শত গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা হাতে রাস্তায় নেমে আসে। সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ১৬-১৭ জনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

সংগঠনটির গাজীপুরের নেতা মো. আবদুল্লাহ বলেন, "শুক্রবার রাতে খবর পাই ধীরাশ্রমে সাবেক মন্ত্রীর বাড়িতে লুটপাট চলছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ছাদে তুলে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে আরও শিক্ষার্থী এলে তাদেরও পেটানো হয়।"

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১৫ জনকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।