জসিম উদ্দিন মনছুরি

সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত জনজীবন। তীব্র গরম ও জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। ব্যাহত হচ্ছে কল কারখানার উৎপাদন, কৃষি কাজ ও ডিজিটাল সেবা। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশের অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মঘন্টা এক ঘন্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সচল বা চলমান রয়েছে ।

তবে, জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়মিত বিরতিতে অনেক কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে বা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। সর্বশেষ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে প্রায় ৬৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। অবসরকৃত বা মেয়াদ উত্তীর্ণ কেন্দ্র পিডিবি’র (ইচউই) তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেশ কিছু পুরনো কেন্দ্র অবসর বা অবসরকৃত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে (২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডাটা অনুযায়ী ১টি কেন্দ্র অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত) ।

মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)। বর্তমানে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারিতে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সচল রয়েছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে। ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য জানান।তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেরই শক্তিশালী অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ৬৪টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় রয়েছে তিনটি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।মন্ত্রী আরো জানান, সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত নির্ভর করে প্রতিদিনের চাহিদার ওপর। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলোর কারণে ভারতীয় আদানি গ্রুপ বছরে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি নিচ্ছে। আদানির সাথে চুক্তির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি হলে চুক্তি অনুযায়ী তার দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম যখন ৪ দশমিক ৪৬ সেন্ট ছিল, তখন আদানির সঙ্গে ৮ দশমিক ৬১ সেন্টে চুক্তি করা হয়। দাম নির্ধারণে এক অদ্ভূত সূচক দেওয়া আছে চুক্তিতে। এতে আদানিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দাম দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর আদানি বাড়তি নিচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার (৫-৬ হাজার কোটি টাকা)। ২৫ বছর চুক্তির মেয়াদে এক হাজার কোটি ডলার বাড়তি নিয়ে যাবে তারা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর অধীন সম্পাদিত চুক্তিসমূহ পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ওই বছরের নভেম্বরে বিশেষ আইনটি রহিত করা হয়। বিশেষ আইনের অধীন করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত মুনাফার বিপুল সম্ভাবনা থাকায় যোগসাজশ, দুর্নীতি এবং চুক্তি বণ্টনে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রলোভনও বেড়েছে। অতিরিক্ত দাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং চুক্তির নকশার মধ্যেই কাঠামোগতভাবে যুক্ত ছিল। এ চুক্তির ক্ষতিকর দিক হলো অলস বসে ভাড়া নেয় ৫০ শতাংশ কেন্দ্র।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বলছে, গত সরকারের দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। একই সময়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল বেড়েছে ১১ গুণ। ফলে দেউলিয়ার পথে পিডিবি। ২০১৫ সালেও পিডিবির লোকসান ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। গত বছর লোকসান ৫০ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে। সংস্কার না করলে সংকট হবে স্থায়ী। লোকসান চলতেই থাকবে, ভর্তুকি বাড়তেই থাকবে। আর বোঝা যাবে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।

৭ হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ-সক্ষমতা কোনো কাজে লাগছে না। প্রতিবছর অলস সক্ষমতার পেছনে কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে ৯০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত। বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো হলো, লাভটা নিজের, ঝুঁকিটা সমাজের। এতে ২০ থেকে ২৫ বছরের মতো ভাড়া নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার দেবে, ডলারের দাম বাড়লে সরকার দেবে, বিদ্যুৎ ব্যবহার না হলেও সরকার ভাড়া দেবে। এই চুক্তিগুলো জাতীয় স্বার্থের চেয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুই থেকে চার বছর কষ্ট করলে অভিশাপ থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। আর এভাবে চলতে থাকলে দেশ একসময় ডুবে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পিডিবির টিকে থাকতে হলেও ৮৬ শতাংশ দাম বাড়াতে হবে। কিন্তু এই পরিমাণ দাম বাড়ালে শিল্প বাঁচবে না, মানুষ টিকবে না।

আদানি গ্রুপের চুক্তির ফলে অস্বাভাবিক দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে সরকারকে। ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্রে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দাম। গ্যাসচালিত কেন্দ্রে ৪৫ শতাংশ বেশি। সৌরবিদ্যুৎ খাতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেশি। এগুলো বাজারের দাম নয়, চুক্তির ফল। গত সরকারের সময় জরুরি আইনের আড়ালের চুক্তিপ্রক্রিয়া রাষ্ট্র দখলের রূপ নেয় ও স্বার্থান্বেষীর পক্ষে ঝুঁকে পড়ে। ফার্নেস তেলে চালিত সামিট বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অন্য ফার্নেস তেল কেন্দ্রের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে ব্যয়বহুল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তুলনায় সামিটের মেঘনাঘাট-২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ দ্বিগুণ।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে সরাসরি নির্দেশে এসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে চুক্তির সঙ্গে জড়িত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হিসাবে কয়েক মিলিয়ন ডলারের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লাভ নিশ্চিত করাই ছিল এসব চুক্তির মূল লক্ষ্য।

২৩ জুলাই ২০২৫ এর তথ্যমতে দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২,৩২২ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬,৭৯৪ মেগাওয়াট। জানুয়ারি ২০২৬ এর তথ্য মতে,গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ।মোট সঞ্চালন লাইন (সা.কি.মি.) ১৭,৯২৩ । গ্রিড সাব-ষ্টেশন ক্ষমতা (এমভিএ) ৮৬,৯৫১।বিতরণ লাইন (কি.মি.) ৬ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৪৪। জুন ২০২৫ এর তথ্য মতে বিতরণ লস ৭.৩৮% । মাথাপিছু উৎপাদন (কিঃওঃআঃ) ৬৬১ (২৪-২৫ অর্থবছর)। বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ১০০%।

যেভাবে লোডশেডিং এর মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এ পরিস্থিতি টেলিযোগাযোগ খাতকে ‘ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে’ বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অপারেটরদের জেনারেটর নির্ভরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সমন্বিত জ্বালানি লজিস্টিক ব্যবস্থা না থাকলে সাময়িক বিঘœগুলো স্থায়ী নেটওয়ার্ক ‘ব্ল্যাক জোন’এ পরিণত হতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে। গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চাই। ডাটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতে অগ্রাধিকার চাই। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি পরিবহন সহজ করার ব্যবস্থা চাই। এসব ব্যবস্থা না নিলে লাখো ব্যবহারকারীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।” একই ধরনের কথা বলেছেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান। তিনি বলেন, “জ্বালানির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা টেকসই না। টেলিযোগাযোগ খাতকে একটি জরুরি সেবা হিসেবে যেভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বাস্তব কার্যক্রমে সেভাবে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।” তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জ্বালানি সহজলভ্যতা নিশ্চিত না হলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ভেঙে পড়বে।” সংকটের কথা স্বীকার করে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, “কমিশন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে।” তবে, টেলিযোগাযোগ খাতের নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, এই সমন্বয়কে দ্রুত কার্যকর বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। নইলে পুরো ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, টেলিযোগাযোগ সংকট এখন বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা, ই-কমার্স ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, রফতানিমুখী শিল্প, তৈরি পোশাক খাত, সরকারের ডিজিটাল সেবা ও জরুরি সেবা। বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনও দীর্ঘমেয়াদি বিঘœ অর্থনৈতিক ক্ষতি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং লাখো মানুষকে প্রভাবিত করে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে এবং জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।বিদ্যুৎ সরবরাহে অস্থিতিশীলতা টেলিযোগাযোগ খাতকে নজিরবিহীন চাপের মধ্যে ফেলবে। বিদ্যুতের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের অচল হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোকে সচল করা একান্ত প্রয়োজন। সরকারকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত সংকট সমাধানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং অচল হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সচল করে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সময়ের দাবি।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।