বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ভারতীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে বেইজিংয়ের সক্রিয়তা নয়াদিল্লির জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আনন্দবাজার।

বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরের নিকটবর্তী এলাকায় চীনের উপস্থিতি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের চিন্তার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত মনে করে, তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের আড়ালে চীনের মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে ভূকৌশলগত আধিপত্য বিস্তার করা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। নয়াদিল্লি এই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমানায় চীনের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ নামে অভিহিত এই পরিকল্পনায় নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের মতো বড় ধরনের প্রকৌশলগত কাজ রয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, চীন এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সরাসরি বেইজিংয়ের সামরিক ও কৌশলগত নিশানার মধ্যে চলে আসবে। পূর্বে শেখ হাসিনার সরকার এই প্রকল্পের দায়িত্ব ভারতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, সম্প্রতি চীন স্বীকার করেছে তারা অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করেছিল। এই প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের সহযোগিতার কথা ভারত আগে থেকেই জানত।