স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মাঠের পুরো অংশ দীর্ঘ সময়ের জন্য মেলার কাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্থানীয় নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের আন্দোলনের পর জেলা প্রশাসন গত ২০ আগস্ট পূর্বে দেওয়া অনুমতি বাতিল করে। এর পরই ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন মেলার আয়োজক।
এদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের পরও মেলার জন্য নির্মিত অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম মাঠে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে এসব স্থাপনার মাঝের ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় কিশোরদের খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, দ্রুত সব স্থাপনা সরিয়ে ঐতিহাসিক মাঠটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
আন্দোলন ও মেলা বাতিল-----
রাজবাড়ী মাঠে দীর্ঘমেয়াদি মেলা আয়োজনের উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ শুরু হয়। ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’সহ নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে দীর্ঘমেয়াদি মেলা আয়োজন বন্ধ করে মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সাধারণ মানুষের উন্মুক্ত ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ০৫.৪১.৩৩০০.০১৪.০৭.০০২.২৬.১৪৮২-এর মাধ্যমে পূর্বে দেওয়া মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিল করে।
জেলা প্রশাসনের নথি এবং হাইকোর্টে দাখিল করা রিট আবেদনের কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা-২০২৬’ আয়োজনের জন্য ও.এফ. এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মোঃ ওমর ফারুক বিপুল জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। আবেদনে ১৫ আগস্ট থেকে ৪৫ দিন অথবা সুবিধাজনক সময়ে মেলা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে ২৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৩০ দিনের জন্য গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়।
অনুমতিপত্রে মেলাকে অরাজনৈতিক রাখা, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ব্যানার-ফেস্টুন না টাঙানো, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আশপাশের রাস্তায় দোকান না বসানো, মাদক, জুয়া, লাকি কুপন, হাউজি কিংবা অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম না করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ৩৬০ ডিগ্রি সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ একাধিক শর্ত দেওয়া হয়।
শর্তের কোনো একটি ভঙ্গ হলে বা শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও প্রশাসন সংরক্ষণ করে।
১০ লাখ টাকা জমা ও কোটি টাকার বিনিয়োগের দাবি----
হাইকোর্টে দাখিল করা রিট আবেদনে আয়োজক মোঃ ওমর ফারুক বিপুল দাবি করেছেন, মেলা আয়োজনের জন্য তিনি গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে এনআরবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১০ লাখ টাকা জমা দেন। এরপর উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ১২০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়ার কথা রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট আবেদনে আরও দাবি করা হয়, স্টল, শেড, সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব দাবি রিটকারীর বক্তব্য ও দাখিল করা নথির ভিত্তিতে করা হয়েছে,জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে আলাদা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুমতি বাতিল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট-----
জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন মোঃ ওমর ফারুক বিপুল। রিটে ২০ আগস্টের বাতিল আদেশকে বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রাজবাড়ী মাঠে ৩০ দিনের জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকসহ গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা), গাজীপুর পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং গাজীপুর সদর থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটের নোটিশে অ্যাটর্নি জেনারেল ফর বাংলাদেশের উদ্দেশে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদনটি হাইকোর্ট বিভাগের ১৪ নম্বর আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পিটিশনারের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন।
মেলায় কী থাকার কথা ছিল-----
রিট আবেদনে মেলাটিকে দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য প্রচার ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে টাঙ্গাইল শাড়ি, থ্রি-পিস, প্রসাধনী, ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল থাকার কথা বলা হয়।
এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, ম্যাজিক বোট ও সার্কাসসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন এবং টিকিটধারীদের জন্য দৈনিক র্যাফেল ড্রয়ের কথাও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। মেলায় নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।
আয়োজকের দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী ও দোকানিরা এসে মেলায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং ইতোমধ্যে তারা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। অনুমতি বাতিল হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
নাগরিকদের আপত্তি মাঠ দখল নিয়ে-----
অন্যদিকে স্থানীয় নাগরিকদের মূল আপত্তি মেলার নাম বা দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী নিয়ে নয়, বরং ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠের পুরো অংশ দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে।
নাগরিকদের দাবি, অতীতে সরকারি নির্দেশিত বৃক্ষ মেলা বা বিভিন্ন আয়োজন হলেও রাজবাড়ী মাঠের পশ্চিমাংশের সীমিত এলাকায় তা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরো মাঠজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থাপনা নির্মাণ করে মেলার আয়োজনের নজির নেই।
স্থানীয়রা আরও বলেন, রাজবাড়ী মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়-গাজীপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থান। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর জানাজার নামাজ, ঈদের জামাতসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে মাঠটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রয়েছে। ফলে পুরো মাঠ দীর্ঘ সময় বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হলে এর সামাজিক ও ঐতিহাসিক ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়েও উদ্বেগ-----
রাজবাড়ী মাঠের চারপাশে রয়েছে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নাগরিকদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজীপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, কাজী আজীম উদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন প্রাথমিক ও কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে।
দীর্ঘমেয়াদি মেলা হলে অতিরিক্ত জনসমাগম, যানবাহনের চাপ, শব্দ ও বর্জ্যের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আলী নাসের খান- জনদাবির কারণেই অনুমতি বাতিল-----
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজীপুর-২ আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান বলেন, 'ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠের পুরোটা দখল করে এর আগে কখনো মেলার আয়োজন হয়নি। এবারই প্রথম পুরো মাঠ দীর্ঘ সময়ের জন্য মেলার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গাজীপুরবাসীর প্রবল আপত্তি, নাগরিক সমাজের আন্দোলন ও জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা প্রশাসন সেই অনুমতি বাতিল করেছে। আমরা মনে করি, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।'
তিনি বলেন, 'বস্ত্র মেলার আড়ালে লটারি, হাউজি ও জুয়ার আয়োজনের চেষ্টা নিয়ে শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। জনক্ষোভের কারণে সেই ধরনের আয়োজনের সম্ভাবনাও বন্ধ হয়েছে। একটি ঐতিহাসিক ও জনসাধারণের ব্যবহৃত খেলার মাঠকে দীর্ঘদিন বাণিজ্যিকভাবে দখলে রেখে কোনো আয়োজন করা হলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, সাধারণ মানুষের চলাচল এবং নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হয়। বিষয়টি যখন উচ্চ আদালতে গেছে, আমরা প্রত্যাশা করি আদালত জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।'
আলী নাসের খান আরও বলেন, 'রাজবাড়ী মাঠ শুধু একটি খেলার মাঠ নয়, এটি গাজীপুরের ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনভোগান্তি সৃষ্টি করে কিংবা মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার বন্ধ করে কোনো মেলা আয়োজনের পক্ষে আমরা নই। জনভোগান্তিকর মেলা বন্ধে জেলা প্রশাসনের যে সিদ্ধান্ত, সেটিই বহাল থাকবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'
প্রশাসনের নজরে রিট----
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজির হাসান বলেন, 'রিট পিটিশনের বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত দিক পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মাঠ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় কিশোরেরা-----
এদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের পরও রাজবাড়ী মাঠে মেলার জন্য নির্মিত বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ও সরঞ্জাম এখনো রয়েছে। মাঠের বিভিন্ন অংশে এসব স্থাপনার মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় কিশোরদের খেলাধুলা করতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাঠটি যত দ্রুত সম্ভব সব অস্থায়ী স্থাপনা থেকে মুক্ত করে দেওয়া হলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহার ফিরে আসবে। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি আদালতের প্রক্রিয়াতেও জনস্বার্থ ও মাঠটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ফলে একদিকে গাজীপুরবাসীর আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসনের মেলা আয়োজনের অনুমতি বাতিল, অন্যদিকে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আয়োজকের হাইকোর্টে রিট-সব মিলিয়ে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠের মেলা এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনি পরীক্ষারও মুখোমুখি।